×

জাতীয়

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের সবকটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়। এর ফলে রাত ১০টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রটির উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, মেরামতের কাজ চলছে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটও বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ভিত্তিতে ২০০৬ সালে খনির পাশেই এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা ছিল। পরে ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি ইউনিট যুক্ত হওয়ায় মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। তবে নানা যান্ত্রিক জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।

বর্তমানে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রথম ইউনিটটি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বন্ধ হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু হলেও কয়েক মাস পর আবার ২২ এপ্রিল রাতে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন পুরো কেন্দ্রই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

আরো পড়ুন : লোডশেডিং ছাড়াল ৪ হাজার মেগাওয়াট, দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। খনির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কয়লার একমাত্র ক্রেতা বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

হিসেব অনুযায়ী, তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইউনিটগুলো একসঙ্গে চালু না থাকায় কোল ইয়ার্ডে বিপুল পরিমাণ কয়লা জমে গেছে। এতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, বর্তমানে খনিতে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। খনির ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত বেড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ইয়ার্ডে আর জায়গা না থাকায় বিকল্প স্থানে কয়লা সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও উত্তরাঞ্চলের চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তীব্র গরমের মধ্যে সকাল, ভোর ও গভীর রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বগুড়ায় দিন দুপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

বগুড়ায় দিন দুপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

আট ঘণ্টায় প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে

আট ঘণ্টায় প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে

এসএসসি কেন্দ্র ফি’র ১২ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা!

এসএসসি কেন্দ্র ফি’র ১২ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা!

অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান

অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App