বাংলাদেশ-ব্রুনাই বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সম্ভাবনা উজ্জ্বল: রাষ্ট্রদূত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও ব্রুনাই দারুস সালামের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত হাজী হারিস বিন ওসমান।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য মেলার উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আয়োজিত বাণিজ্য মেলাগুলোর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার যথেষ্ট নয়।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), ইপিবি এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ জোরদারে ‘ব্রুনাই-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপান ও জার্মানির কোম্পানির উপস্থিতি দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার প্রমাণ। তবে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ঘাটতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে নীতির পরিবর্তনের আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্রুনাই থেকে সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে সহায়ক হবে।
কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, ব্রুনাই বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চাল আমদানিতে আগ্রহী। অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা বাস্তবায়িত না হলেও ভবিষ্যতে চালের পাশাপাশি আম ও কাঁঠালের মতো কৃষিপণ্যেরও বড় বাজার হতে পারে দেশটি। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় ব্রুনাইয়ের ভোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি আগ্রহ রয়েছে।
শিক্ষা খাতে তিনি জানান, ব্রুনাইয়ের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত পরিসরে বৃত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রদান করা হয়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সাংবাদিকদের পারস্পরিক সফর ও তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে এখনো বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি বা দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি কার্যকর নেই। এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
