২০২৫ সালে আন্দামান-বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রপথে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ জানান, চলতি বছরে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ এই সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন, যা বিশ্বের প্রধান সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পথে যাত্রাকারীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। এই প্রবণতা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে ২ হাজার ৮০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরো স্পষ্ট হয়েছে। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যায়, এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হচ্ছে।
মানব পাচার, শোষণ ও সমুদ্রে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বহু রোহিঙ্গা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। সাধারণত বাংলাদেশর কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে তারা ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামছেন। চলমান সংঘাত, নির্যাতন ও নাগরিকত্ব সংকট তাদের সামনে কোনো কার্যকর বিকল্প রাখছে না।
আরো পড়ুন : অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
এদিকে তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তাও কমে গেছে। শরণার্থী ক্যাম্পে অস্থিরতা, শিক্ষা ও জীবিকার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
ইউএনএইচসিআর বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জীবন রক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমানে এ অঞ্চলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে আশ্রিত। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে।
