ঈদ বাজারে আগুণ, সুগন্ধি চালের দাম আকাশছোঁয়া
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নিত্যপণের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, বিভিন্ন পণ্যের দামও আকাশছোঁয়া হচ্ছে। সেমাই, চিনি, মসলা ও সুগন্ধি চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে অনেক ক্রেতার। ঈদকে সামনে রেখে কয়েকদিনের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের বাজারে সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ ও মসলার চাহিদা তুঙ্গে। তবে এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সুগন্ধি চালের বাজারে অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি; কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল কোম্পানিভেদে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর খোলা সুগন্ধি চালের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে সামনে রেখে সুগন্ধি চাল ও সেমাইয়ের বাজার এখন বেশ চড়া। গত বছরের তুলনায় সুগন্ধি চালের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; বর্তমানে প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। কেবল গত এক মাসেই এই দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। সেমাইয়ের বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ২০০ গ্রাম ওজনের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ৫০০ গ্রাম সেমাইয়ের দাম ৭০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এছাড়া খোলা লম্বা সেমাই ও লাচ্ছা সেমাই যথাক্রমে ৯০ টাকা ও ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কেজিপ্রতি বিদেশি চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেও যা ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি মশলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে দামী মশলা এলাচ, যা খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জিরার কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দারুচিনি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য শাহী মশলার মধ্যে জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা ও জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লবঙ্গ, ধনিয়া ও তেজপাতার দামও বাড়তি। পাশাপশি কিশমিশ, আলুবোখারা ও কাজুবাদামসহ সব ধরনের বাদামের দামও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সবজির বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। পেঁয়াজ, আলু, লেবু, শসা, বেগুনসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা, আলু ১৮-২০ টাকা এবং টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫-৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০-৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে লেবুর দাম অবশ্য বাড়তি রয়েছে। প্রতিহালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
