ঈদযাত্রায় রাজধানীতে র্যাবের ৩২ টিম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় ৩২টি টিম মোতায়েনের পাশাপাশি সিভিল টিম, টহল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সদরঘাট আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০–এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
র্যাব জানায়, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সদরঘাট, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, সূত্রাপুর ও কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৩২টি টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহে ছয়টি সিভিল টিম কাজ করবে।
ঈদযাত্রা ঘিরে নেওয়া এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের দিন এবং পরবর্তী সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
র্যাব আরও জানায়, অপরাধ দমনে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ‘রোবাস্ট পেট্রোলিং’ ও ‘ফুট পেট্রোলিং’ পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি করা হবে।
যাত্রীদের সহায়তায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে, যেখানে র্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। যাত্রাপথে কোনো হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সরাসরি বা ফোনের মাধ্যমে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে র্যাবের অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ এবং মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে রাতের টহল আরও জোরদার থাকবে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সদস্যরা সার্বক্ষণিক মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
