ইবাদত ও তাৎপর্যের রাত পবিত্র শবে কদর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় রজনী হলো ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদর। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে এই রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতে মুমিন মুসলমানরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এই রাতটি অনুসন্ধান করেন এবং ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
পবিত্র কুরআনে শবে কদরের গুরুত্ব বোঝাতে আলাদা একটি সূরা—‘সূরা আল-কদর’ নাজিল করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্পর্কে আপনি কি জানেন? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।" (সূরা আল-কদর, আয়াত: ১-৩)।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বহন করে। এই রাতেই মানবজাতির হেদায়েতের পথপ্রদর্শক হিসেবে পবিত্র আল-কুরআন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাজিল হয়েছিল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে) শবে কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মুসলিম বিশ্বে সাধারণত ২৭শে রমজান দিবাগত রাতকে শবে কদর হিসেবে বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়।
শবে কদরের রাতে সারা বিশ্বের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নামে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং দীর্ঘ মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এছাড়া মৃত আত্মীয়-স্বজনের মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করতে দেখা যায় অনেককে।
এই রাতের একটি বিশেষ দোয়া হলো:
"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।"
(হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।)
শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়। টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো এই রাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। মুসলিম সমাজ ব্যবস্থায় এই রাতটি শান্তি, সৌহার্দ্য এবং আত্মশুদ্ধির এক মহান বার্তা নিয়ে আসে।
পরিশেষে, শবে কদর হলো আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার শ্রেষ্ঠ সুযোগ। এই মহিমান্বিত রাত যেন প্রত্যেকের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে, এটাই থাকে মুমিনদের প্রার্থনা।
