কুকুর হত্যার দায়ে তিন জনের কারাদণ্ড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লোহার রড, সাড়াশি ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে ২০টি কুকুর হত্যার দায়ে তিন জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৮ মার্চ) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছর করে সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. আবুল খায়ের, মো. অপু ও মো. মানিক।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সাইম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘আসামিদের প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ এর ১৬(ক) ধারায় ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এছাড়াও একই আইনের ১৬(খ) ধারায় প্রত্যেককে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। উভয় ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেকে আসামিকে দুই বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।’
এদিন রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. মানিক উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দু’আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
এদিকে, মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধলপুর লিচু বাগান এলাকায় ২০টি কুকুর হত্যার এক নৃশংস ঘটনা ঘটে। মামলার তথ্যমতে, আসামিরা লোহার রড, সাড়াশি ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যবহার করে কুকুরগুলোকে হত্যা করে বস্তায় ভরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনার পর ‘অ্যানিমেল লাভারস অব বাংলাদেশ’-এর স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবাদ জানালে আসামিরা মামলার বাদী মো. মারুফুল হকসহ অন্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এর দুই দিন পর মো. মারুফুল হক বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে আসামি আবুল খায়ের মোল্লা, মো. অপু ও মো. মানিকের বিরুদ্ধে কুকুর হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকালে তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
