বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী, খোঁজ নিলেন তারেক রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
ফাইল ছবি
ইরানে ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনার কারণে বাংলাদেশ থেকে ওই অঞ্চলের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই প্রবাসী এবং ইউরোপ বা আমেরিকাগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রী।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। তিনি আটকা পড়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের জন্য নেওয়া সহায়তা ব্যবস্থা তদারকি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে যাত্রীদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন যৌথভাবে যাত্রীদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করছে।
মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় ৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা করেছে, আর সিভিল এভিয়েশন আরও ৮০০ জনের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ওমানের মাস্কাটগামী ৫৩ জন যাত্রী সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছিলেন, কিন্তু তাদের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হোটেলে পাঠানো হয়েছে এবং সেহরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোববার তাদের সিলেটে পৌঁছানোর জন্য এসি বাসের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় শনিবার বিকেল থেকেই ঢাকা থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল অনিশ্চিত রয়েছে।
সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ পালন শেষে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার পথে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আরও অনেক যাত্রীর সঙ্গে তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকা পড়েন।
এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া গতকাল এক স্ট্যাটাসে মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘সকালে আমরা জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ইকে–০৮০৬ ফ্লাইটে উড্ডয়ন করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সব ফ্লাইট পুনরায় জেদ্দায় ফিরে এসেছে।’
এর আগে গতকাল বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যে তাদের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এসব গন্তব্যের যাত্রীদের বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ ছাড়া সরাসরি বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নয়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট চালু হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আকাশপথ নিরাপদ হলেই ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করা হবে।
এদিকে গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ওইসব দেশের কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ওইসব গন্তব্যের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনায় বলা হয়, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য যাত্রীদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস), ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে আগেভাগেই জানাতে হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কর্মীদের উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
