চিকিৎসার জন্যও বিদেশে যেতে দেয়নি ইউনূস সরকার, অভিযোগ রাষ্ট্রপতির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে নির্ধারিত চিকিৎসা ফলোআপে যেতে চেয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে বাইপাস সার্জারির এক বছর পর ফলোআপের সময় নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু চিকিৎসার উদ্দেশে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলে তাকে সরাসরি নিষেধ করা হয়। একইভাবে লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টেও যেতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। একসময় তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, তবে পদটি মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত।
দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদ বিলুপ্তির আদেশ দেওয়া, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়ানো এবং পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করানোসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রপতি।
আরো পড়ুন : ড. ইউনূস নিজের পছন্দ অনুযায়ী উপদেষ্টা চূড়ান্ত করেন
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, আমাকে যেন এই প্রাসাদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। এক বছর পর ফলোআপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকায় তিনি সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। জবাবে তাকে জানানো হয়, প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা যেতে পারে, কিন্তু তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। একইভাবে লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু সেখানেও যেতে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার বিদেশ সফর করলেও তিনি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যেতে পারেননি। তার অভিযোগ, তাকে মানসিকভাবে চাপে রেখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো যায় এবং নির্বাচন বিলম্বিত করা সম্ভব হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতির জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অংশগ্রহণের রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে দুই ঈদের নামাজে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে তাকে জানানো হয়, তিনি যেন জাতীয় ঈদগাহে না যান।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি জানান, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে আয়োজন করি; জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা ওই দিবসগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু তিনি আসেননি। এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়।
আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেত কি না, এ প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি বলেন, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সেটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী সরকার। আইনি জটিলতা বিবেচনায় তিনি সংঘাতে না গিয়ে পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়াকেই সমীচীন মনে করেছেন।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, জীবনের দীর্ঘ ৪০ বছর আইন পেশায় কাটিয়েছেন। অবসরের পর শারীরিকভাবে সক্ষম থাকলে আইনি পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে চান।
