রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
ড. ইউনূস নিজের পছন্দ অনুযায়ী উপদেষ্টা চূড়ান্ত করেন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আগে একটি খসড়া উপদেষ্টা তালিকা প্রস্তুত ছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই তালিকা পর্যালোচনা করে কয়েকটি নাম বাদ দেন এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন কয়েকজনকে যুক্ত করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদমাধ্যম দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কঠিন সময় পার করার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকারে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ ছিল না। ফলে তখন একটি সাংবিধানিক জটিলতার মুখে পড়ে দেশ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ ও ৭-ক অনুযায়ী, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এ অবস্থায় কীভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে সমাধান সম্ভব, তা নিয়ে উদ্যোগ নেন তিনি।
আরো পড়ুন : আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল শতভাগ: রাষ্ট্রপতি
মহামান্য রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের মতামত চান। সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও কর্মসূচির মধ্যে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে আপিল বিভাগ বিষয়টি বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতিকে মতামত দেয় যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এর আগে ৬ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেন, কারণ সে সময় দেশে কার্যত সরকার ছিল না। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালতের মতামত পাওয়ার পর রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এতে সশস্ত্র বাহিনীরও পূর্ণ সমর্থন ছিল।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হবে- এ প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি জানান, ছাত্রনেতারা শুরু থেকেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামেই অটল ছিলেন। সে সময় তিনি ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন থাকায় যোগাযোগে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছিল। বিকল্প হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এলেও ছাত্রনেতারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, আগে থেকেই বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধান ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত ছিল। সেখান থেকে ড. ইউনূস কিছু নাম বাদ দেন এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী কয়েকজনের নাম যুক্ত করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
খসড়া তালিকা থেকে কারা বাদ পড়েছিলেন, এ প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূস নিজ হাতে তালিকায় সংশোধন এনেছেন। বিশেষ করে এনজিও–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তিনি নিজেই নাম যুক্ত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক, স্বাস্থ্য বিষয়ক ও ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বে থাকা কয়েকটি পদেও পরিবর্তন আনা হয় তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
