অভিযোগ রাষ্ট্রপতির
বিদেশ সফর ও কূটনৈতিক রেওয়াজে বাধা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
বিদেশ সফর আটকে দেওয়া এবং কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে ছবি নামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে নানা উপায়ে চাপে রাখার চেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদমাধ্যম দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি।
বিদেশ সফর আটকানোর একটি ঘটনা তুলে ধরে সাহাবুদ্দিন বলেন, কাতারের আমির তাকে একটি সামিটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, যেখানে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, কাতারের আমির আমাকে দাওয়াত করল ওখানে একটা সামিটে অংশগ্রহণের জন্য। রাষ্ট্রপতি অ্যাড্রেস করবেন। সেই সেমিনারে রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তখন আমার কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে একটি চিঠি দেওয়া হলো। চিঠিটি বানিয়ে দেওয়া হলো, তারাই ড্রাফট করল। ড্রাফট করে আমার কাছে পাঠায়। আর ওই দাওয়াতপত্রটাও পাঠায়। চিঠিটার মধ্যে ছিল যে, ‘আমি রাষ্ট্রীয় কাজে ভীষণ ব্যস্ত’। সুতরাং এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি দুঃখিত। ওই চিঠিতে আমি যেন সই করে দিই।
তিনি সত্যিই রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যস্ত ছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে রাষ্ট্রপতি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি কি এত বেশি ব্যস্ত থাকে, আমাদের সংবিধানের আলোকে? যাই হোক, পরে আমি ওই চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পাল্টা একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। তাতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অপরাধ না করা হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিই। ওই চিঠির জবাবে তারা নিরুত্তর ছিল। তবে এরপর আর কোনো দেশ থেকে আমন্ত্রণ এসেছিল কি না, সে বিষয়ে জানার সুযোগও হয়নি।
আরো পড়ুন : আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা ছিল শতভাগ: রাষ্ট্রপতি
কেবল বিদেশ সফর নয়, দেশের অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আরেকটি ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একদিন হঠাৎ করে কোনো একজন উপদেষ্টা বিদেশ ভ্রমণে গেছেন। সেখানে বাংলাদেশ হাই কমিশনে আমার ছবিটা লাগানো আছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের কনস্যুলেট থেকে শুরু করে হাই কমিশন, সব জায়গায় রাষ্ট্রপতির ছবি থাকে। কারণ স্টেটকে রিপ্রেজেন্ট করে রাষ্ট্রপতি। এটা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। কোনো একজন উপদেষ্টা তিনি বিদেশে গিয়ে আমার ছবিটা দেখেছেন। দেখে ওখানেই কনস্যুলেটের প্রধানকে গালিগালাজ করেছেন, এই ছবি এভাবে থাকবে কেন?
তিনি অভিযোগ করেন, তারপর এক রাতের মধ্যে সারা পৃথিবীর সব হাই কমিশন থেকে আমার ছবি নামিয়ে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিনের একটা রেওয়াজ রাতারাতি শেষ করে দেওয়া হলো। ওই ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে আমি জানতে পারি।
বিদেশের মিশনগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানোর উদ্যোগের মধ্যে গত ১৭ আগস্ট বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্যাফেতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ছবি দেখা যায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তখন আমার মনে হয়েছে যে এটি বোধহয় আমাকে অপসারণের প্রথম ধাপ। সুতরাং পরবর্তী ধাপে হয়তো আমাকে সরিয়ে দেবে। এ জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ছাড়া জনগণের মধ্যেও তো একটা বিরূপ বার্তা যায় যে উনাকে রাখা হচ্ছে না। এ ধরনের কাজও হয়েছে। তা-ও তো সহ্য করে, দৃঢ়তার সঙ্গে আমি থেকেছি, শুধু সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য।
