পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি। ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আবেদন করার ক্ষেত্রে নিজ সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি। এ বিষয়ে তিনি সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত এ দাবি করেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন করার পর তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তাকে ‘অগ্রসর না হতে’ নির্দেশ দেন। ফলে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা ‘নোট ভারবাল’ না পাওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আর এগোয়নি।
রাষ্ট্রদূত জানান, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হলে জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মী তাকে আবেদন করার জন্য উৎসাহ দেন। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শে তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
মুশফিক ফজল আনসারির দাবি করেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শুরুতে মৌখিকভাবে আবেদন করতে সম্মতি দিলেও আবেদন জমা দেওয়ার পর বার্তা পাঠিয়ে তাকে অগ্রসর না হওয়ার নির্দেশ দেন। জবাবে তিনি জানান, আবেদন ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে উপদেষ্টা তার ফোন ধরা বন্ধ করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরো পড়ুন : শেখ হাসিনা-কামালকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের পদে সদস্যরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতার সম্ভাবনা ছিল, তবে তিনি নিজ দেশের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।
তিনি আরো দাবি করেন, বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে না চাওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ চাননি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় সমর্থন দেওয়া হয়নি। যদিও তিনি উল্লেখ করেন, এ পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না, সদস্যরাষ্ট্র মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।
পোস্টে তিনি আরো অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং ও জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ববোধের কারণে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করছেন না জানিয়ে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে একটি বই লেখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
