পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
শহীদ জিয়ার ফরেন পলিসিতে ফিরছে বাংলাদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ফরেন পলিসিতে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘পরস্পরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, নন-ইন্টারফেরেন্স, কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, ন্যাশনাল ডিগনিটি, জাতীয় সম্মান-মর্যাদা এবং পারস্পরিক সুবিধা, একতরফা কিছু না। আমরা পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে আমাদের জাতীয় স্বার্থ পই পই করে বুঝে নেবো। এক হিসেবে আমরা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ফরেন পলিসিতে ফেরত যাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ফরেন অ্যাফেয়ার্সে জয়েন করি, তার তিনটা অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপের কথা আমার মনে পড়ে। ১৯৭৪ সালে আমরা জাতিসংঘের সদস্যপদ পাই। তার চার বছরের মধ্যে তিনি আমাদের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং জাপানের মতো একটা শক্তিকে পরাজিত করে আমরা সে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম।’
‘দ্বিতীয়ত ছিল সার্ক। সবচেয়ে আনকানেক্টেড একটা অঞ্চলে তিনি এই কানেক্টিভিটির কথা বলেছেন এবং সার্ককে প্রতিষ্ঠার যে কাজ বড় বড় কাজগুলো, তিনি করে গেছেন। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক শান্তি, বিশ্বশান্তি রক্ষায় আলকুদস কমিটিতে তার ভূমিকা, মানে আমাদের ফরেন পলিসি শুধু ইতিবাচকই না, অনেক বিস্তৃত ছিল, আমরা সেই জায়গায় ফেরত যেতে চাই। আমি মনে করি বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারে না, আমরা সেটা করতে চাই। আপনারা দেখবেন, আমাদের ফরেন পলিসিতে ওই বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।’
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা বিষয়ে আমাদের যে নজরটা ছিল, সেটি কোনোভাবে কমবে না বরং বাড়বে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং সর্বপ্রথম আমরা আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেই যোগাযোগগুলো অব্যাহত থাকবে, এই সমস্যার আমরা একটা আশু সমাধানের চেষ্টা করবো এবং আমি এই বিষয়ে আশাবাদী।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অবশ্যই দায়িত্বটা চ্যালেঞ্জিং, একইভাবে ইন্টারেস্টিং এবং আমাদের ফরেন পলিসি, আমাদের ফরেন মিনিস্টার যেটা বলেছেন, বিএনপির যেটা লক্ষ্য সেটা হলো, আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখবো এবং আমাদের ফরেন পলিসি ফর চেঞ্জ আফটার সেভেন্টিন ইয়ারস, এটা আমাদের জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আমাদের ফরেন পলিসি সেটাই, সেদিকে আমরা এগোতে চাই।’
