বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এত অবনতি কেন?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা বেড়েছে। চবি: সংগৃহীত
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত চলে গেলে বাংলাদেশ এক অস্থির সময় পার করতে শুরু করে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের পরেও, বাংলাদেশের পরিস্থিতি শান্ত হতে না পারায় বিশ্বের নজর এখন বাংলাদেশে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে উগ্রপন্থী শক্তির উত্থান এবং সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এনটিভির এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং আদিবাসীরা, জাতিগত এবং ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ২০০০-এরও বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ভারতও এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ভারতের পতাকার অবমাননা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে দিয়েছে। কিছু দিন আগে বাংলাদেশে ভারতের পতাকা পুড়ানোর এবং হিন্দু ধর্মগুরুদের আটক করার ঘটনায় ভারতীয় মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়।
আরো পড়ুন: শেখ হাসিনা ইস্যুতে একঘরে হয়ে পড়ছে ভারত?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলামী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের বিপরীত। ইউনুস সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির পরিবর্তে, বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের দিকে আরো ঝুঁকছে। সম্প্রতি পাকিস্তান বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে। যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জটিল করেছে।
এছাড়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী মনোভাব এবং হিন্দু ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা ক্রমাগত বাড়ছে। যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা এবং সংকট পরিস্থিতি ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। ভারতকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং উপযুক্ত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ প্রতিবেশী দেশের ভিতরকার রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সহিংসতা ভারতের নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে।
