কোটা সহিংসতায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হলেন যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৮:৪৮ এএম
নাশকায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১১৭। ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত তিনদিনে ঢাকা থেকে এক হাজার একশ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনের সুযোগে নাশকতা, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও কার্যালয়ে আগুনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্যে বাধার অভিযোগে ১৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে ১২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬০১ জনকে, বাকীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে রবিবার। জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। তাদের অনেককে রিমান্ড না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিচ্ছে পুলিশ।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, ঢাকা জেলা বিএনপির সেক্রেটারি নিপুর রায় চৌধুরী।
আরো পড়ুন : পোশাক কারখানা খুলছে আজ, আইডি কার্ডই কারফিউ পাস
এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃতের মধ্যে আরো রয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সামিউল হক ফারুকী প্রমুখ।
এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এ সময় ১ হাজার ১১৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। নিহতরা হলেন, ডিএমপির নায়েক, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক। এছাড়াও ১৩২ জন গুরুতর আহত। তাদের মধ্যে তিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে সংঘটিত সহিংসতা নাশকতায় এবং পুলিশের গুলিতে কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং কত মামলা ও কতজন গ্রেপ্তার সে তথ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা তিনজন, আহতের সংখ্যা ১১১৭ জন। ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশের ২৮১ যানবাহন ভাঙচুর ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুলিশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ২৩৫টিতে।
