×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

জাতীয়

বাংলাদেশ প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ০৮:৫২ পিএম

বাংলাদেশ প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত

বাংলাদেশের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই এ দেশের জন্ম ও এগিয়ে যাওয়া। এই জায়গায় কোনো আপোষ চলবে না। এর বাইরে মুক্তিযুদ্ধের গোড়ায় গিয়ে সব দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, মৌলবাদী ও উগ্রবাদী কোনো অপশক্তিকে আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে জায়গা দিতে চাই না। কারণ তারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তি বিনষ্ট করে। 

শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের কনভেনশন হলে পিস অ্যাম্বাসেডরস জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে, ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) সহযোগিতায় ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের অংশীদারিত্বে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। 

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবার আগে তথ্যের সততা নিশ্চিতে অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আরাফাত বলেন, ভিন্ন মত থাকা সমাজ ও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সত্য ও সঠিক তথ্য বলার ক্ষেত্রে সবাইকে একমত হতে হবে। সত্য স্বীকার করতে হবে। তারপর ভিন্ন মতামত দিতে হবে। তথ্যই যদি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয় তাহলে সমাজে কারো মঙ্গল বয়ে আনবে না। কাজেই আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে, আমরা তথ্যের জায়গায় সততা নিশ্চিত করবো।

আরো পড়ুন: গুলশান-বারিধারায় লোডশেডিং দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করা আমাদের দায়িত্ব। সত্য মেনে নেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে, রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য বিকৃত করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। আগে অঙ্গীকার করতে হবে যে, আমি যে রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাস করি না কেনো, তথ্যের জায়গায় আমি নিশ্চিত করতে চাই আমার সততা। সেই তথ্য, যেটা সত্য। সত্য কারো পক্ষে যাবে, কারো বিপক্ষে যাবে। সত্য যেদিকেই যাবে সেটা মেনে নিতে হবে।

ছবি: ভোরের কাগজ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা বিতর্কের আগে করমর্দন করে না, কেউ কারো দিকে তাকায় না। সেখানে তো শান্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নোংরা ভাষায় আক্রমণ করছে। আর সেই দেশ আমাদের লেকচার দেয়, নসিহত করে এই করতে হবে, ওই করতে হবে।

তথ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন কিছু ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটে গেছে ও ঘটানো হয়েছে, যে কারণে বাংলাদেশের রাজনীতি আজ দাঁড়িয়ে আছে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ওপরে। বাংলাদেশে ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘটেছে। বাংলাদেশের রক্তের ইতিহাস আছে। তার ওপর দিয়ে বিভক্তি ও দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হওয়ার অনেক কারণ আছে। তবে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে পেছনে নিয়ে যাবে। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা দরকার, ভিন্ন মত থাকা দরকার। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতা হবে ইতিবাচক। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে পরিণত হয় যখন নেতিবাচকতা চলে আসে। যদি আমরা ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারি তাহলে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। আগামী দিনে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে দেখিয়ে দিতে পারবো এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, মতবিরোধ আছে, ভিন্ন মত আছে, কিন্তু শান্তিও প্রতিষ্ঠা আছে। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বাইরে আমরা রাজনীতিকে নিতে পারব। ভিন্ন মত, তর্ক-বিতর্ক সবকিছু থাকবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি আমরা তর্কের যুদ্ধ, কথার যুদ্ধ করবো। আমাদের মধ্যে ভিন্ন মতের জায়গা থাকবে, কিন্তু কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সহিংসতায় জড়ানো ঠিক হবে না। এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রানা মো. সোহেল, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App