যেসব শর্তে ইতিবাচক সংকেত পেলে ইসলামাবাদে যাবে ইরান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত শর্তে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে তারা ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠাতে পারে। তবে এখনো দেশটি তাদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই আলোচনা তাদের দৃষ্টিতে শুধু কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি “যুদ্ধক্ষেত্রের ধারাবাহিকতা” হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরান তাদের পূর্বশর্ত থেকে সরে আসেনি। তিনি বলেন, লেবাননের বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জব্দ করা সম্পদ মুক্তির বিষয়টিও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পূর্বশর্তগুলোর একটি। আমরা এসব মূলনীতির ওপর এখনো দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছি।
ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেন, এসব শর্ত মানা না হলে পরিস্থিতির পরিণতি খারাপ হতে পারে। যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় যা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়- যা আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রেরই অংশ—অথবা তারা পূর্বের প্রতিশ্রুতিগুলো না মানে, তাহলে তা প্রমাণ করবে তারা ইরানের পূর্বশর্ত গ্রহণ করেনি এবং এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে।
আরো পড়ুন : হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ জব্দ করল মার্কিন বাহিনী
ইব্রাহিম আজিজি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবস্থান জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই কাজ করে এবং দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় যা প্রয়োজন, তাই করা হবে।
তিনি আলোচনাকে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বর্তমান আলোচনাগুলোকে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখি। যদি এটি আমাদের অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে সহায়তা করে তাহলে আলোচনাও একটি সুযোগ। কিন্তু যদি যুক্তরাষ্ট্র এটিকে অতিরিক্ত দাবি চাপানোর মঞ্চে পরিণত করতে চায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
শীর্ষ এই আইনপ্রণেতা জানান, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও ‘রেড লাইন’ বা সীমা নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে, তবে কোনোভাবেই ‘যেকোনো মূল্যে’ নয় এবং অন্য পক্ষের সব শর্তও মেনে নেওয়া হবে না।
ইরান ইসলামাবাদে প্রতিনিধি দল পাঠাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজি ইঙ্গিত দেন, বিষয়টি নির্ভর করবে ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার ওপর। তিনি বলেন, আমরা কখনো আলোচনার মূলনীতিকে ভয় পাইনি। আজ বা আগামীকাল পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর যদি আমেরিকান আলোচক দল থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যায়, তবে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি।
