×

মধ্যপ্রাচ্য

যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন ব্যবস্থা একেবারে আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে থাকে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ভূমিকা শুরু হয় ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্র উৎখাত করা হয় এবং ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কের মতো বিষয়ে তার অনুমোদন অপরিহার্য ছিল।


১৯৩৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন খামেনি। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও কুরআনের পাঠের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তিনি নাজাফ ও কুমের মতো শিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে উৎখাতের পর ফেরত আসা খামেনি পেহলভীর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হন। শাহের গোপন পুলিশ (সাভাক) তাঁকে বহুবার গ্রেপ্তার ও নির্বাসনে পাঠায়। তবে ১৯৭৮ সালের বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন খামেনি।


বিপ্লবের পর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন খামেনি। ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর তত্ত্বাবধায়ক হন। ১৯৮১ সালে প্রতিহিংসামূলক হামলায় তাঁর ডান হাতের কার্যক্ষমতা হারালেও তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হন।

আরো পড়ুন : পশ্চিমবিরোধী কঠোর শাসনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খামেনি

তিনি দেশকে পুনর্গঠন ও আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। ইরাক–ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাঁকে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি সন্দেহজনক করে তোলে। আইআরজিসি বাসিজ নামক প্যারামিলিটারি বাহিনীকে শক্তিশালী করে ইরানের ভেতরে এবং আঞ্চলিকভাবে প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেন তিনি। পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রতিরোধ অর্থনীতির মাধ্যমে দেশকে আত্মনির্ভর করতে উৎসাহিত করেন খামেনি।

খামেনির শাসনকালে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম ছিল না। ২০০৯ সালের নির্বাচনী বিক্ষোভ, ২০১৯ সালের জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং ২০২২ সালে মহসা আমিনির মৃত্যুর পর সামাজিক আন্দোলনগুলো কঠোরভাবে দমন করা হয়। তিনি সবসময় পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রাসন ও দেশীয় নিরাপত্তা হুমকিকে প্রধান্য সমস্যা হিসেবে দেখেছেন।


আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির জন্য খামেনি প্রতিরোধ অক্ষ গঠন করেন। এর মাধ্যমে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার বাসার আল-আসাদ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথিদের সমর্থন দেয়। তবে ২০২৩ সালের হামাস–ইসরায়েল সংঘাত ও সিরিয়ার পরিস্থিতির কারণে এই অক্ষ দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যু ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ট্রাম্পকে সাবমেরিনের ঘণ্টা উপহার দিলেন ব্রিটেনের রাজা

ট্রাম্পকে সাবমেরিনের ঘণ্টা উপহার দিলেন ব্রিটেনের রাজা

৩৭৮১৪ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

৩৭৮১৪ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

হামের উপসর্গ নিয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেই ৭৩ রোগী ভর্তি

হামের উপসর্গ নিয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেই ৭৩ রোগী ভর্তি

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক’

রুমিন ফারহানা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে আনা হোক’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App