×

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইরান। এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের আশঙ্কাটিই এখন বাস্তবে রূপ নিল যে, একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের ভয়াবহতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করতে পারে।

শরিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানি সরকার ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলো।

ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিশালী আঘাত’ পেয়েছে। এই অভিযান অবিরাম চলবে যতক্ষণ না শত্রু সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়। এছাড়া, অঞ্চলের সব মার্কিন লক্ষ্যবস্তুই ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ‘রাজধানী আবুধাবিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন, যেখানে ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করা হয়েছে।’

বাহরাইন জানিয়েছে, ‘হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন নৌবাহিনী ফ্লিট পঞ্চম সদর দপ্তর। দেশটি হামলাকে ‘কপটচালিত’ এবং ‘রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।’

এদিকে, সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে যে, ‘কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কুয়েতেই মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত।’

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘দেশটির ওপর কয়েকটি হামলা ‘বাধাগ্রস্ত’ হয়েছে।’

মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, ‘পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলার হুমকি তৎক্ষণাৎ মোকাবিলা করা হয়েছে এবং সব ক্ষেপণাস্ত্র কাতার ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগে প্রতিহত করা হয়েছে।’

এ ঘটনার পর কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি দোহা থেকে জানিয়েছেন, ‘গালফ সহযোগিতা কাউন্সিলের (জিসিসি) একমাত্র দেশ ওমানকে ইরান আজ পর্যন্ত আঘাত করেনি।’

ওমান বহু বছর ধরে ইরান ও অন্যান্য দেশের মধ্যে যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিকভাবে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতামূলক আলোচনাতেও ওমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলো।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার বলেছিলেন, ‘শান্তি ‘হাতের নাগালে’ এবং ইরান আলোচনায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ না করার অঙ্গীকার করেছে। বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি এটিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, ফলে ওই আলোচনা কার্যত ভেঙে গেছে।’

উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ-বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত নিয়ে গঠিত হয়েছে গালফ সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি)। ১৯৮১ সালে এই জোটটি মূলত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।

দোহা থেকে বাসরাভি জানিয়েছেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত একটি ডজন বিস্ফোরণ শোনা গেছে। বেশিরভাগ শোনা যাচ্ছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত হচ্ছে। ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা প্রথম চালানোর পর এখন সবকিছুই সম্ভব।’

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ঝুম বৃষ্টিতে ভরদুপুরে যেন রাত নেমেছে রাজধানীতে

ঝুম বৃষ্টিতে ভরদুপুরে যেন রাত নেমেছে রাজধানীতে

ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী

আরাফাত ময়দানে সমবেত লাখো হজযাত্রী, শুরু মূল পর্ব

আরাফাত ময়দানে সমবেত লাখো হজযাত্রী, শুরু মূল পর্ব

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App