আসক-এর প্রতিবেদক
সংকটের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মানবাধিকার সংগঠনটির মতে, মুক্ত, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা জানিয়েছে।
শনিবার (২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে আসক জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল একটি স্বতন্ত্র অধিকার নয়, এটি অন্যান্য অধিকারের সুরক্ষার অন্যতম ভিত্তি। আর স্বাধীন গণমাধ্যম নাগরিকের কণ্ঠকে শক্তিশালী করে, ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচিত করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে, যা রাষ্ট্রকে এমন পরিবেশ নিশ্চিতের দায়িত্ব দেয় যেখানে সাংবাদিক ও নাগরিকেরা ভয় বা হয়রানির শঙ্কা ছাড়াই মত প্রকাশ করতে পারেন। একইসঙ্গে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১৯ অনুচ্ছেদে তথ্য অনুসন্ধান, গ্রহণ ও প্রচারের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন : এখনো বহুমাত্রিক সংকটে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো বহুমাত্রিক সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা, ডিজিটাল মাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে হয়রানি, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় চাপ, মালিকানাগত প্রভাব, আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক সেন্সরশিপ এবং মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহে বাধা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর সংকুচিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও নজরদারির অভিযোগও উঠে আসে। তথ্য অধিকার আইন কার্যকর প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা, সরকারি তথ্যপ্রাপ্তিতে অনীহা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতাকে দুর্বল করছে। ফলে গণমাধ্যম তথ্য প্রাপ্তিতে বাধাগ্রস্ত হলে জনগণও সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
অসত্য তথ্য, অপতথ্য, হিংসা ও ঘৃণাত্মক প্রচারণার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাধীন মতপ্রকাশ সীমিত না করে তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, গণমাধ্যমের পেশাগত মানোন্নয়ন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিমূলক নীতিমালা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয় আসক। সংগঠনটির প্রত্যাশা, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি আইন, নীতি বা অপব্যবহার পর্যালোচনা ও সংস্কার, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলা, সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া তথ্য অধিকার আইন কার্যকর বাস্তবায়ন ও সরকারি তথ্য প্রাপ্তি সহজতর করা, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও নৈতিক সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা, নারী সাংবাদিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে আগত গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নিরাপদ এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের কথা জানিয়েছে আসক।
