×

আইন-বিচার

বার্গম্যান

‘রাজনীতিকীকরণের ধারণা ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

 ‘রাজনীতিকীকরণের ধারণা ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে’

ফাইল ছবি

‘চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলাগুলো যদি প্রমাণের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তার গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’ 

ব্রিটিশ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান সতর্ক করে এ কথা বলেছেন। 

শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, কিছু মামলা ক্রমশ “প্রমাণভিত্তিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত” বলে ধারণা তৈরি হচ্ছে, যদিও অন্য কিছু মামলায় প্রমাণের ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

“২০২৪ সালের জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডবিধির অধীনে আওয়ামী লীগ নেতাদের পাইকারি হারে গ্রেপ্তারের পর থেকেই একটি উদ্বেগ কাজ করছিল; আর তা হল, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যে সমান্তরাল আইনি প্রক্রিয়া চলছে, রাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তা সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে কি না। এখন এমন কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় আমরা সেই দিকেই এগোচ্ছি।"

১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠন করে বিক্ষোভ দমনে সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে বিচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেখানে বেশ কিছু মামলা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলার রায়ও এসেছে।

বার্গম্যান লিখেছেন “পরিস্থিতির এই অবনতি (রাজনীতিকীকরণ) হঠাৎ করে হয়নি, বরং ধীরে ধীরে হয়েছে; যদিও কিছু মামলা রয়েছে, যেগুলোর তথ্যপ্রমাণ অন্যান্য মামলার তুলনায় সন্তোষজনক বলে মনে হয়।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর মামলার কথা তুলে ধরেন এবং প্রশ্ন তোলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করার মত পর্যাপ্ত প্রমাণ তদন্তকারী ও প্রসিকিউটরদের কাছে আছে কি না।

রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার মামলায় ফজলে করিমসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ৭ এপ্রিল অভিযোগটি আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

বার্গম্যান তার পোস্টে বলেন, তদন্তকারী ও প্রসিকিউটরদের কাছে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত–জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফজলে করিমকে অভিযুক্ত করার মত প্রমাণ আছে কি না।

মামলার অভিযোগ থেকে তুলে ধরে তিনি বলেনে, ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে চট্টগ্রাম শহরে ১৬ ও ১৮ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বার্গম্যান তার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলছেন, ফজলে করিম ছিলেন রাউজানের এমপি, চট্টগ্রাম শহরের নয়; মামলায় যেসব হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো তার নিজের নির্বাচনি এলাকায় ঘটেনি এবং চট্টগ্রাম শহরের জন্য আওয়ামী লীগের কোনো কথিত চেইন অফ কমান্ডের মধ্যেও তিনি পড়েন না।

“ওই দিনগুলোতে যাদের অস্ত্র হাতে দেখা গেছে, তারা মূলত অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুসারী, চৌধুরীর নয়। তাকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বা তিনি কোনো আদেশ বা নির্দেশনা দিচ্ছেন— এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডও নেই।”

বিস্ময় প্রকাশ করে বার্গম্যান বলেছেন, “এই প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারী ও প্রসিকিউটররা কীভাবে যৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন যে তার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর মত যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তা বোঝা কঠিন।”

তার ভাষ্য, “অভিযোগপত্রে চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাখ্যা অন্যত্র নিহিত। রাউজানভিত্তিক ধর্মীয়-রাজনৈতিক সংগঠন মুনিরিয়া যুব তাবলিগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সরব ছাত্রগোষ্ঠী, যার সঙ্গে জুলাই আন্দোলনপন্থি অন্যান্য গোষ্ঠীও যুক্ত, তারা চৌধুরীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য ট্রাইব্যুনালের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

“সম্ভবত তদন্তকারীরা প্রতিবেদন থেকে তার নাম বাদ দিতে পারেননি, আর প্রসিকিউটররাও অভিযোগপত্র থেকে তাকে বাদ দেওয়ার অবস্থানে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে প্রমাণের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন আদৌ করা হয়েছে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চালানো উচিত নয়।”

ফেসবুক পোস্টে মামলাটির সঙ্গে যুক্ত এক প্রসিকিউটরকে ঘিরে আরেকটি বিতর্কের কথাও বলেছেন বার্গম্যান।

তিনি লিখেছেন, “গত মাসে জানা যায়, মামলার সঙ্গে যুক্ত এক প্রসিকিউটর জামিনে সহায়তার বিনিময়ে চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। চৌধুরীর পরিবার কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ করলে বিষয়টি সামনে আসে।

“ট্রাইব্যুনাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই পরিবারকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি।”

তিনি লিখেছেন, “যেখানে মামলার সঙ্গে যুক্ত একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলমান (যদিও তিনি বর্তমানে আর আইসিটিতে কর্মরত নন), সেখানে চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায় বলে মনে হয় না।

বার্গম্যান বলেন, মামলাটি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে। আইনের বিধান অনুযায়ী কেবল তখনই অভিযোগ গঠন করা যাবে, যখন ট্রাইব্যুনাল মনে করবে যে, আসামি অপরাধটি করেছেন বলে অনুমান করার মত যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ট্রাইব্যুনাল কীভাবে পৌঁছায়, সেদিকে নজর রাখা উচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

 আরও ১৭১ জন ক্রীড়াবিদ পেলেন ‘ক্রীড়া কার্ড’

আরও ১৭১ জন ক্রীড়াবিদ পেলেন ‘ক্রীড়া কার্ড’

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু

হাম সন্দেহে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু

দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব

সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App