ফ্ল্যাট দুর্নীতি
টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে প্লট দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে এক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত। ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট দুর্নীতির মামলায় দুদকের অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ ছাড়াও পরোয়ানার আরেক আসামি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন রাখা হয়েছে।”
রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির আরেক মামলায় ১ ডিসেম্বর টিউলিপকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
পূর্বাচলে মা শেখ রেহানাকে ১০ কাঠা প্লট পাইয়ে দিতে খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। রায়ে শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের পাঁচ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন লন্ডন ও ঢাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো টিউলিপ।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশান ২ নম্বরে ওই প্লট হস্তান্তরে ব্রিটিশ এমপি ‘প্রভাব বিস্তার’ করেন এবং সেখানেই ‘ঘুষ’ হিসেবে একট ফ্ল্যাট নেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে গুলশান ২ এর একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিককে দিতে সহায়তা করেন। তিনি (টিউলিপ) কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ফ্ল্যাটটি গ্রহণ করেন এবং পরে সেটির খতিয়ান ও অনুমোদন পেতে ‘প্রভাব’ খাটান।
এ মামলায় রাজউকের দুই সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশারফ হোসেনকেও আসামি করা হয়।
