পুরোনো প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত বছরের পুরোনো প্রশ্নপত্রে ১৭ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পর এক ঘণ্টা পর প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। পরে নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসির প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক উপজেলার বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পরিদর্শকদের জানিয়ে প্রশ্ন পরিবর্তনের অনুরোধ করেন। তবে পরিদর্শকরা অভিযোগ আমলে না নিয়ে তাদের ধমক দিয়ে পুরোনো প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও নষ্ট হওয়া সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ১৭ জন শিক্ষার্থী উপজেলার আল্লারদর্গা শিল্প এলাকার নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে তারা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিভাবকরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনা জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। পরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
এ বিষয়ে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে চরম অবিচার। পরীক্ষার প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্বহীনতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টা সময় নষ্টের পর মাত্র ৩০ মিনিট ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী বলেন, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হলেও প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বোর্ডকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
