নড়াইলে সংঘর্ষ-গুলি, আহত ২৫
শুভ সরকার, নড়াইল থেকে
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়ায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছে। এদের অনেকের শরীরে ছররা গুলির আঘাত লেগেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াগ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শেখ ও মোল্যা বংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এলাকায় শেখ বংশের নেতৃত্বে রয়েছেন মাহবুবুর রহমান শেখ ও ইসরাইল শেখ এবং মোল্যা বংশের নেতৃত্বে আছেন খায়রুল মোল্যা। গত শনিবার ঈদের দিন মাংস ভাগাভাগি করে নেয় শেখ বংশের লোকজন। মোল্যা বংশের সমর্থক সালমানকে মাংশের ভাগ না দেয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় প্রতিপক্ষের সাথে। এঘটনার জেরে সোমবার রাতে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এ সময় শটগানের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে মোল্যা বংশের মাহাবুর মোল্যা (৪০), রমজান মোল্যা (৫৫), মিন্টু মোল্যা (৫২), নাহিদ মোল্যা (২১), টুটুল মোল্যা (৩০), শাহীদুল মোল্যা (৪৮), রাজা মোল্যা (৫০), বাঁধন মোল্যা (২৬), তামিম মোল্যা (১৯), সুমন মোল্যা (২৮) এবং শেখ বংশের জরিপ শেখসহ (৫০) উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে নড়াইল জেলা হাসপাতাল ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শেখ বংশের আহত জরিপ শেখ বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিবার বারইপাড়া ব্রীজে মেলার মত হয় ,আমি আর আমার চাচাত ভাই সেই ব্রীজ থেকে ঘুরে বাড়ি ফিরছিলাম। মোল্লা বংশের আহত মাহাবুর মোল্যা (৪০) বলেন, মারামারিটা হয়েছে আমাদের এক ভাগ্নে সালমানকে মাংস না দেওয়া নিয়ে। আমরা শুনতে গিযেছিলাম শেখ বংশের কাছে কি কারণে ঈদের দিন মাংস দেওয়া হয়নি । এটা বলার পর তারা আমাদের উপর আক্রমন করে এবং গুলি করে, আমরা অনেকেই আহত হয়েছি।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. অলোক কুমার বাগচি বলেন, সংঘর্ষে আহত ১৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এখন তারা আশঙ্কা মুক্ত রয়েছে।
দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোলাগুলি বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিয়া থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো.হাসানুল কবির বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১৪ জন আটক করা হয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে ।
