×

খুলনা

কাল বৈশাখী ঝড়ে কুয়াকাটায় ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড

Icon

আনোয়ার হোসেন আনু , কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

কাল বৈশাখী ঝড়ে কুয়াকাটায় ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড

ছবি: কাগজ প্রতিবেদক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের লেম্বুর বনে কাল বৈশাখী ঝড়ে শুটকি, খাবার হোটেল, ঝিনুক ও ফিস ফ্রাই, জেলেদের বাসা সহ ১৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

১৬ মার্চ (সোমবার) রাতে সবাই যখন তারাবির নামাজ শেষে সবে কদরের ইবাদতে ব্যস্ত ঠিক সেই মুহূর্তে ঝড় শুরু হয়। ঘন্টা ব্যাপী এ ঝড়ো বাতাসে তছনছ হয়ে যায় এসব ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাসির জোমাদ্দার,নাসির আকন,আলাউদ্দিন জোমাদ্দার,মহিবুল জোমাদ্দার,রাসল জোমাদ্দার মালেক মৃধা,ইকবাল,জহিরুল ইসলাম, নুর আলম,রাকিব জোমাদরদার,সিদ্দিক মৃধা,নাইম আকন,মামুন সিকদার, আসলাম,শাহালম, ইয়াসিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৭ টি দোকান দুমড়ে মুচড়ে গেছে। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো আংশিক ক্ষতি হয়েছে। 

তবে ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দাবি করলেও স্থানীয়দের দাবি অর্থ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রাকিব জোমাদ্দার বলেন, সমুদ্রের কোলঘেষে তাদের শুটকির দোকান। সন্ধায় দোকান বন্ধ করে রাতে সবে কদরের ইবাদতে মসজিদে ছিলেন। মোনাজাতের সময় হঠাৎ এ ঝড় ওঠে। এতে তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ফিস ফ্রাইয়ের দোকানদার নুর আলম জানান, তার ফিস ফ্রাইয়ের দোকানটি ঝড়ে সম্পুর্ন দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এতে তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। নুর আলম বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ক্ষতি তাদের চিন্তায় ফেলেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাসির জোমাদ্দার বলেন, রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানের টিন উড়ে যায়। সকালে দেখি সব শেষ—মালামাল নষ্ট, দোকান ভেঙে গেছে। প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই দোকান। ঝড়ে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আলী আক্কাস জানান, লেম্বুর বন এলাকায় অর্ধশতাধিক বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যটক নির্ভর এ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব পরিবারের ঈদ আনন্দ ধুলোয় মিশে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ীরা সরকারি সহায়তা পেলে এ ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারতেন। 

অপরদিকে কাল বৈশাখী ঝড়ে কলাপাড়া উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় দুই শতাধিকের বেশি কাচা, আধা কাচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে গেছে বলে উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সহস্রাধিক  ঘরবাড়ি। বেশ কিছু ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। রাত থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিলো কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কলাপাড়া উপজেলা। এ উপজেলার ধানখালী,বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ, টিয়াখালী ও লতাচাপলী ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক বেশি। তবে ঠিক কি পরিমানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি এখনো নিরুপন করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। অনেক হতদরিদ্র মানুষ ঘর মেরামত করতে না পেরে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। তাই তারা সরকারী সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কাউছার হামিদ বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 



সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ঝড়ের কবলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবোচরে আটকা লঞ্চ

ঝড়ের কবলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবোচরে আটকা লঞ্চ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্তকরণের আশ্বাস সেতুমন্ত্রীর

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্তকরণের আশ্বাস সেতুমন্ত্রীর

৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস, স্মৃতি ও বর্তমানের প্রশ্ন

৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস, স্মৃতি ও বর্তমানের প্রশ্ন

রাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

রাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App