ভারতে ঝড় তুলেছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে এক নজিরবিহীন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত তরুণ প্রজন্মকে প্রধান বিচারপতি ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করার পর গত শনিবার (১৬ মে) থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিনব প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপ এই প্রতীকী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাত্র তিন দিনে লাখ লাখ তরুণের সমর্থনে এটি একটি বিশাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক উন্মুক্ত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশটির যুবসমাজের একটি অংশকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন,‘কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা কোনো কর্মসংস্থান পায় না। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তথ্য অধিকার কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।’
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ভারতের ‘জেন জি’ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর জবাবে শনিবার অভিজিৎ দিপকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে চলে আসে, তবে কী হবে?’ এর পরদিনই তিনি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ঝড়
চালুর মাত্র তিন দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এরই মধ্যে অনুসারীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ এর সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছেন। দলটির সদস্য তালিকায় ভারতের লোকসভার সদস্য মহুয়া মৈত্র এবং সাবেক সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদের মতো পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও নাম লিখিয়েছেন।
ভারতের অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আমলা আশিস জোশী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘গত এক দশকে দেশে তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভারত এখন এতটাই ঘৃণায় পূর্ণ যে, এই দলটিকে মুক্ত বাতাসের ঝাপটা মনে হচ্ছে।’
সদস্য হওয়ার অদ্ভুত শর্ত
তেলাপোকা জনতা পার্টির সদস্য হওয়ার জন্য চারটি অদ্ভুত শর্ত রাখা হয়েছে:
১. আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে।
২. অলস হতে হবে।
৩. সার্বক্ষণিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হতে হবে।
৪. পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশে পারদর্শী হতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এই ব্যঙ্গাত্মক দলের ইশতেহারে ভারতের বর্তমান বিচারব্যবস্থা, করপোরেটপন্থি গণমাধ্যম এবং ভোটার জালিয়াতির অভিযোগকে কটাক্ষ করা হয়েছে। দলটির মূল লক্ষ্য তরুণদের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়াজ তোলা।
