মস্কোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৩
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা তিন রুশ নাগরিক নিহত হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসি।
রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় আকারের ড্রোন হামলায় গত রাতে তিনজন নিহত হয়েছেন।’
আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়েভ জানিয়েছেন, ‘রাজধানীর উত্তরে খিমকি এলাকার একটি বাড়িতে ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন আটকা পড়লে এক নারী মারা যান। পোগোরেলকি গ্রামে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন।’
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, ‘শহরের একটি তেল শোধনাগারে হামলায় ১২ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ৫৫৬টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।’
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলার জবাবে এই হামলাগুলো ছিল একটি "সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত" প্রতিক্রিয়া।’
এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাতভর রাশিয়ার ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে আটজন আহত হয়েছেন।
২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করেন এবং বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রোববার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে করা এক পোস্টে ভোরোবিয়েভ লিখেছেন, ‘ভোর তিনটে থেকে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী অঞ্চলে একটি বড় আকারের ইউএভি (ড্রোন) হামলা প্রতিহত করে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘ওই অঞ্চলে তিনজন পুরুষ ও একজন নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
গভর্নর আরো জানান, ‘মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিমে সুবোটিনো গ্রামে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে আগুন লেগেছিলো।’
মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন বলেছেন, ‘শহরের তেল শোধনাগারের একটি প্রবেশপথে ড্রোন হামলায় ১২ জন আহত হয়েছেন। কাছাকাছি তিনটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বিমানবন্দরটি জানিয়েছে, মস্কোর ব্যস্ততম শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, যাত্রী টার্মিনালগুলোর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং বিমানবন্দরটি থেকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে যাত্রী ও বিমান পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে।
রোববার সর্বশেষ ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের "দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা মস্কো অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে"।’
টেলিগ্রামে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা রুশদের স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি: তাদের রাষ্ট্রকে অবশ্যই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।’
এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ জানিয়েছে, ‘তারা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মস্কো অঞ্চলে বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনা এবং একটি সেমিকন্ডাক্টর তৈরির কারখানায় হামলা চালিয়েছে।’
এতে আরো বলা হয়েছে, ‘২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে নেওয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার বেলবেক সামরিক বিমানঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে।’
এর আগে, জেলেনস্কি কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক রুশ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
তিনি শনিবার বলেছেন, ‘এই সপ্তাহে ইউক্রেন ইতোমধ্যে বিমান, একটি হেলিকপ্টার ও একটি পণ্যবাহী জাহাজসহ রাশিয়ার মূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। কিয়েভের মতে, এই জ্বালানি স্থাপনাগুলো রাশিয়াকে যুদ্ধ সচল রাখার রসদ জোগায়, তাই এগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
এদিকে, ইউক্রেনের ভেতরেও রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে রাশিয়া মোট ২৮৭টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত বা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, সাতটি ভিন্ন এলাকার আটটি স্থানে রুশ ড্রোন সরাসরি আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওলেক্সান্দর হানজা জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের চারটি জেলায় ৩০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে আঞ্চলিক রাজধানী দনিপ্রো শহরেই তিনজন আহত হন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও রাশিয়ার ড্রোন হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
