×

আন্তর্জাতিক

ইরানের কাছে এখনো ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে: সিআইএ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

ইরানের কাছে এখনো ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে: সিআইএ

ফাইল ছবি

যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ইরান এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান এবং ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারবে।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের কাছে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি গোপন বিশ্লেষণে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএর এই নথির বিষয়ে জানাশোনা থাকা চার ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার আশাবাদ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইরানবিষয়ক গোপন মূল্যায়নগুলো প্রায়ই প্রশাসনের প্রকাশ্য বিবৃতির চেয়ে বেশ সংযত হয়ে থাকে। এসব প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহের তীব্র হামলার পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অক্ষুণ্ন রয়েছে। 

আরো পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বিভিন্ন প্রমাণ বলছে, ইরান ভূগর্ভস্থ প্রায় সব সংরক্ষণাগার পুনরুদ্ধার ও আবার চালু করতে পেরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত করা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় প্রায় প্রস্তুত থাকা কিছু নতুন ক্ষেপণাস্ত্রও তারা এখন নিজেদের অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত করেছে।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে’। তাদের হাতে সম্ভবত ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটা খুব বেশি নয়।

বর্তমান তিনজন ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মূল বিষয়গুলো দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধের প্রভাবের ওপর জোর দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের এ অবরোধের বাস্তব প্রভাব রয়েছে। এর প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ইরান বাণিজ্যিকভাবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আয়ের পথ বন্ধ হচ্ছে এবং অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে ভেঙে পড়ছে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির নেতারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কাছে এখন নিজের জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানো ছাড়া আর কিছু বাকি নেই। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে গিয়ে তারা নিজেদের জনগণকে কষ্টে রাখছে, যে যুদ্ধে ইতিমধ্যে তারা হেরে গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক বিজয় হিসেবে অব্যাহতভাবে তুলে ধরছেন। যদিও ওয়াশিংটনের দাবি মেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ ও ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে এখন পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ইরান।

বুধবার ট্রাম্প নৌ অবরোধকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে উল্লেখ করে বলেন, নৌবাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে। এটি ইস্পাতের দেয়ালের মতো, যা ভেঙে কেউ চলাচল করতে পারছে না।


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইউক্রেন যুদ্ধে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

বিজেপি জয়ে মুখ খুললেন টালিউডের তারকারা

বিজেপি জয়ে মুখ খুললেন টালিউডের তারকারা

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

আগামীকাল থেকে শুরু পুলিশ সপ্তাহ, পদক পাচ্ছেন ১০৭ জন

আগামীকাল থেকে শুরু পুলিশ সপ্তাহ, পদক পাচ্ছেন ১০৭ জন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App