ইউক্রেনের জন্য সময় নেই যুক্তরাষ্ট্রের: জেলেনস্কি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি- সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ওয়াশিংটনের মনোযোগ সরে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, মার্কিন প্রশাসনের এই পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের ফলে ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি রাশিয়ার সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনাও স্থবির হয়ে পড়েছে।
জার্মানির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানে ভূমিকা রাখা দুই মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এখন তাদের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করছেন ইরান ইস্যু নিয়ে। জেলেনস্কির মতে, এই দুই ‘বাস্তববাদী’ কূটনীতিক রাশিয়ার ওপর পর্যাপ্ত চাপ প্রয়োগের বদলে এখন পুতিনের সঙ্গে কেবল আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি শান্ত করতে চাইছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যদি পুতিনের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি না করে কেবল নরম সুরে কথা বলে, তবে রাশিয়া কাউকে ভয় পাবে না।' উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা পুরোপুরি ঝুলে আছে।
ইউক্রেনের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম অস্ত্রের অপ্রতুলতা। জেলেনস্কি জানান, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। নরওয়ে সফরের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর এবং পিএসি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,'মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পরপরই আমরা বুঝেছিলাম যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। বর্তমানে অস্ত্রের সরবরাহ অত্যন্ত ধীরগতিতে আসছে, যা আমাদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রকে কঠিন করে তুলছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মনোযোগ কমে যাওয়ায় এখন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে কিয়েভ। এই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার বার্লিন সফর করে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা খাতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে এক যৌথ ঘোষণায় জেলেনস্কি জানান, এখন থেকে নরওয়েতে ইউক্রেনীয় ড্রোন তৈরি করা হবে। নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সরাসরি ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে হাঁটছে। মূলত পঞ্চম বছরে পা রাখা এই যুদ্ধে টিকে থাকতে এখন ওয়াশিংটনের বিকল্প হিসেবে ইউরোপীয় অংশীদারদের ওপরই বেশি ভরসা করতে হচ্ছে ভলোদিমির জেলেনস্কিকে।
