ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা ইরানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাতায়াতের রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার অভিযোগে পারস্য উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই হামলায় প্রিমা নামের একটি ট্যাংকার জাহাজকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। তবে জাহাজটি কোন দেশের তা জানায়নি রেভল্যুশনারি গার্ড।
বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা বার বার সতর্কবার্তা দিয়েছি যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং তাদের মিত্র সমর্থকদের জাহাজ চলাচল নিষেধ। কিন্তু প্রিমা নামের ট্যাংকার জাহাজটি আমাদের সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি।”
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হলো হরমুজ প্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির প্রধান করিডোর এটি। এই জলপথটি না থাকলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ত এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা দুরুহ হয়ে যেত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ক্রুদের ওপর কড়া নজরদারি ও সতর্কবার্তা জারি করে ইরানের আইআরজিসি। তবে কেবল সতর্কবার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তেহরান; ব্রিটিশ সংস্থা 'ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স' (UKMTO)-এর তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে এই কৌশলগত জলপথে অন্তত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান।
সূত্র : বিবিসি
