×

আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্ক টাইমস

ইরানের স্কুলে আমেরিকাই হামলা চালিয়েছিলো

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম

ইরানের স্কুলে আমেরিকাই হামলা চালিয়েছিলো

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। চলমান এই সংঘাতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনায় এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। তবে এই মর্মান্তিক হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই স্বীকার করেনি।

তবে বার্তা সংস্থা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সংগ্রহ করা প্রমাণ– স্যাটেলাইট চিত্র, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও যাচাই করা ভিডিও ইঙ্গিত করছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত একটি নৌঘাঁটিতে হামলার সময় একটি নির্ভুল হামলায় স্কুল ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো।

হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত আইআরজিসি ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর হামলার যে দাপ্তরিক স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে, তা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে এই আক্রমণের পেছনে সম্ভবত তারাই দায়ী। মার্কিন বাহিনীর এই সামরিক তৎপরতা হামলার সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, যুক্তরাষ্ট্র কি স্কুলে বিমান হামলা চালিয়েছে? তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমাদের জানামতে না।’ ওয়ার ডিপার্টমেন্ট বিষয়টি তদন্ত করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘মিনাব শহরের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।’

হামলার পর বেশ কয়েকদিন পার হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা এর দায় স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বুধবার বলেছেন, ‘একটি তদন্ত চলছে।’

রোববার সাংবাদিকদের ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনি ওই সময়ে ওই এলাকায় কোনো ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে অবগত নন।’

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ‘ওইদিন মার্কিন বিমানগুলো সেই অঞ্চলে অপারেশন পরিচালনা করছিল যেখানে স্কুলটি অবস্থিত।’

মিনাব শহরের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রাজধানী তেহরান থেকে ৬০০ মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত হলেও এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর একেবারে সন্নিকটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, শনিবার দেশটির প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় হামলার সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার প্রথম খবর ছড়িয়ে পড়ে। সেসব পোস্ট বিশ্লেষণের পাশাপাশি হামলার এক ঘণ্টার মধ্যে ধারণকৃত পথচারীদের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, একই সময়ে স্থানীয় স্কুল এবং নৌঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছিল।

ভূ-অবস্থান বিশেষজ্ঞদের চিহ্নিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘ঘাঁটির এলাকা ও স্কুল থেকে বেশ কয়েকটি বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে।’

ঘটনার পরপরই একটি ইরানি মানবাধিকার গোষ্ঠী স্কুল ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ করে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত এবং নিউইয়র্ক টাইমস কর্তৃক স্বতন্ত্রভাবে যাচাইকৃত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আহত ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

পাশাপাশি, জনৈক মোটরসাইকেল আরোহীর ধারণ করা অন্য একটি ভিডিওতে আইআরজিসি (IRGC) ঘাঁটির প্রবেশপথের দৃশ্য উঠে এসেছে। ভিডিওটিতে কম্পাউন্ডের দুটি প্রবেশপথে আইআরজিসির প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক এবং একটি নৌ চিকিৎসা কমান্ডের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘যেখানে সামরিক ভবনগুলোতে আঘাত করা হয়েছিল সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিলো।’

ঘাঁটির অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার নেপথ্য কারণ বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’ থেকে উচ্চমানের ছবি সংগ্রহ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। বুধবার সংগৃহীত এই নতুন স্যাটেলাইট চিত্রটি গত কয়েকদিনের ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য প্রদান করেছে।

চিত্রগুলোতে দেখা যায়, ‘স্কুলের পাশাপাশি আইআরজিসির অন্তত ছয়টি ভবনে একাধিক নির্ভুল আঘাত করা হয়েছে। নৌঘাঁটির ভেতরে চারটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অন্য দুটি ভবনের ছাদের মাঝখানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা নির্ভুল আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য এবং পেন্টাগনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট নতুন স্যাটেলাইট চিত্রগুলো পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্কুলসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি স্থাপনায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বা ‘পিকচার পারফেক্ট’ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত হানা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে স্কুলটিকে ভুল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিলো। অর্থাৎ বাহিনীটি সেখানে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক লোক থাকতে পারে তা উপলব্ধি না করেই আক্রমণ করেছিলো।’

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী সেই সময় দক্ষিণ ইরানে হামলা চালাচ্ছিলো। তার উপস্থাপিত একটি মানচিত্রে দেখা গেছে, ‘মিনাবসহ একটি এলাকা অপারেশনের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো। যদিও এটি স্পষ্টভাবে শহরটিকে শনাক্ত করেনি।’

ব্রিফিংয়ে জেনারেল কেইন বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী প্রধানত আরও উত্তরের অংশে কাজ করছে। তিনি সেখানে কোনো ইসরায়েলি তৎপরতার উল্লেখ না করেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেন।’

সুনির্দিষ্টভাবে জেনারেল কেইন বলেন, ‘দক্ষিণ অক্ষ বরাবর, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল বরাবর সমুদ্র থেকে চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে এবং প্রণালী জুড়ে নৌ সক্ষমতা হ্রাস করছে।’

নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনা করা ২০১৩ সালের স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ‘স্কুলটি একসময় আইআরজিসি নৌঘাঁটির অংশ ছিল। ঘাঁটির অন্যান্য এলাকা থেকে রাস্তাগুলো স্কুল ভবন পর্যন্ত গিয়েছিলো, যেখানে শনিবার আঘাত হানা হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের স্যাটেলাইট চিত্র দেখায়, ভবনটি আলাদা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেটি আর ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলো না।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ‘হামলাটি এখনো তদন্তাধীন। যদি নিশ্চিত হওয়া যায় একটি মার্কিন বোমাই মিনাব শহরের স্কুলটিতে আঘাত করেছে, তবে প্রশ্ন উঠতে পারে– স্কুলে হামলাটি ভুল ছিল নাকি পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।’

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে মাহিন, ইমরান

তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে মাহিন, ইমরান

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী তুরস্কের সেলেবি

বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী তুরস্কের সেলেবি

হান্টাভাইরাস নিয়ে কতটা ঝুঁকি, যা জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

হান্টাভাইরাস নিয়ে কতটা ঝুঁকি, যা জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বুধবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

বুধবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App