নেপালের জাতীয় নির্বাচনে
ক্ষমতাচ্যুতির ৫ মাসের নির্বাচনের মাঠে কেপি শর্মা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা ফিরে পাবেন।’
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নেপালে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়েছে।
দেশটির আসন্ন নির্বাচনে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে প্রবীণ বামপন্থী নেতা কে পি শর্মা অলি এবং তরুণ প্রজন্মের আইকন বালেন্দ্র শাহর মধ্যে। সেপ্টেম্বর বিপ্লবের পর তরুণদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়া বালেন্দ্র শাহ রাজনৈতিক মহলে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তৎকালীন সংকটের সময় আন্দোলনকারীদের পছন্দের তালিকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য প্রধান হিসেবেও তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছিল।
এদিকে, নির্বাচন ঘিরে গত সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট চান অলি। তার দৃষ্টিতে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে, ‘যারা দেশ পোড়ায় এবং দেশ গড়ে তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা’।
সোমবার নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপা-৫ আসনটি নির্বাচনী প্রচারের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ -উভয়ই পৃথকভাবে তাদের প্রচারণা শুরু করেছেন। ১ লাখ ৬৩ হাজার ভোটারের এই জনপদে শহর ও গ্রামের সংমিশ্রণ থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে এখানে অলির একটি মজবুত ভোটব্যাংক ও শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।
৬৬ বছর বয়সী হিমা কারকি বলেন, ‘কেপি অলি এই জাতির জন্য অপরিহার্য। তিনি দেশের ত্রাণকর্তা এবং এখান থেকে তার জয় সুনিশ্চিত।’
তবে তার ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে সংশয় আছে ভোটারদের মাঝে। ঝাপার ৩৩ বছর বয়সী বাসিন্দা ছবি খাতিওয়াদা এক সময় অলির সমর্থক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বালেন্দ্রকে সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কেবল তরুণরাই পরিবর্তন আনতে পারে। এখন আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া এবং নতুন নেপালের জন্য কাজ করার উপযুক্ত সময়।’
আগামী নির্বাচনে নেপালের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটারের মধ্যে এবার নতুন যুক্ত হয়েছেন ৮ লাখ তরুণ ভোটার। দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবশিষ্ট ১১০টি আসন নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সমানুপাতিক (পিআর) হারে। এবারের ১৬৫টি আসনে লড়ছেন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ প্রার্থী, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—প্রায় ৩০ শতাংশ প্রার্থীর বয়সই ৪০ বছরের নিচে।
