×

বরিশাল

ভোলায় ৩ ট্রাক ইলিশ জব্দ নিয়ে বিতর্ক

Icon

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

ভোলায় ৩ ট্রাক ইলিশ জব্দ নিয়ে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

ভোলায় তিন ট্রাক ইলিশ জব্দ করাকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জব্দকৃত মাছগুলো নদীর নাকি সাগরের—এই অমীমাংসিত প্রশ্ন ঘিরেই মূলত উত্তাপ ছড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নদীর মাছ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে সাগরের মাছ আখ্যা দিয়ে জব্দ করা হয়েছে, যার নেপথ্যে ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘তথ্যদাতাদের’ (সোর্স) হাত থাকতে পারে বলে তারা অভিযোগ করছেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১২ মে) চরফ্যাশনের সামরাজ ও নতুন স্লুইজঘাট থেকে দুটি ট্রাকে করে ঢাকায় ইলিশ পাঠানো হচ্ছিল। মাছ পরিবহনের জন্য চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে বৈধ অনুমতিপত্রও নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মোশারেফ হোসেন বাশার ও কামাল হোসেন। তবে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভোলা শহরের পান বাজার এলাকায় কোস্ট গার্ড ও সদর উপজেলা মৎস্য অফিস অভিযান চালিয়ে তিনটি ট্রাক জব্দ করে।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ট্রাকে থাকা প্রায় ১০ হাজার ১৪০ কেজি ইলিশকে ‘সামুদ্রিক মাছ’ হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং বুধবার দুপুরে সেগুলো স্থানীয় এতিমখানা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়। জব্দকৃত মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কোস্ট গার্ড ও সদর মৎস্য বিভাগ: সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভুইয়া জানান, সামুদ্রিক মাছ ধরায় বর্তমানে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। জব্দকৃত মাছগুলো সামুদ্রিক হওয়ায় সেগুলো আটক করা হয়েছে। অবৈধ মাছ থাকলে বৈধ ছাড়পত্র থাকলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

চরফ্যাশন মৎস্য বিভাগ: অন্যদিকে, ছাড়পত্র প্রদানকারী কর্মকর্তা চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "এগুলো নদীর ইলিশ দেখেই আমরা ছাড়পত্র দিয়েছি। ১৪ বছর উপকূলে চাকরি করেও অনেক সময় সাগর ও নদীর ইলিশ পৃথক করা কঠিন হয়। আটকের সময় তারা কী দেখে নিশ্চিত হলেন যে এগুলো সাগরের মাছ?"

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা: জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, সাগরের কাছাকাছি নদীগুলোতে ধরা মাছের উৎস নির্ণয় করা অত্যন্ত জটিল। ঘাট থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে সড়কে মাছ দেখে সেগুলো নিশ্চিতভাবে সাগরের মাছ বলা বাস্তবসম্মত নয়।

জব্দ হওয়া মাছের মালিক কামাল হোসেন ও মোশারেফ হোসেন জানান, নিয়ম মেনেই তারা নদীর মাছ সংগ্রহ করেছিলেন। এই অভিযানের ফলে তারা এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু তথাকথিত ‘সোর্স’ মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলেই এমন ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়।

বর্তমানে চরফ্যাশনের আড়তগুলোতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৈধ ছাড়পত্র থাকার পরও মাছ জব্দ হওয়ায় মৎস্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ আড়তগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে, সঠিক সমন্বয় ও কারিগরি পরীক্ষার অভাব থাকলে ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়

চিফ হুইপ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়

অভিযুক্ত ফোরকান পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে: পুলিশ

গাজীপুরে ৫ হত্যাকাণ্ড অভিযুক্ত ফোরকান পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে: পুলিশ

নওগাঁয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

নওগাঁয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে কাজ, প্রকল্পে অর্থ লুটের অভিযোগ

শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে কাজ, প্রকল্পে অর্থ লুটের অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App