হামের টিকাদান শুরুর তারিখ ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের প্রতিটি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ও শুক্রবারের (৩ এপ্রিল) মধ্যে টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে সারা দেশে পাঠানো হবে। এরপর আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে হামের টিকাদান কার্যক্রম।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে হামের টিকাদান কার্যক্রম ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এসব তথ্য জানান।
গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অভিযোগ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেশি আক্রান্ত এলাকায় আগে টিকা দেওয়া হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টিকা পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। হাম রোগ মোকাবিলায় ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই ছয় জেলায় হাম বেশি ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যে সাত শতাধিক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৫০ জনের বেশি।
হামের টিকাদানে অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বিলম্ব না করে সরকারের ত্বরিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত। গুরুত্ব না দিলে হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। একজন রোগী ১৬ থেকে ১৮ জনের মধ্যে হাম ছড়াতে পারে।
দেশে হামের টিকা শিশুদের সাধারণত দুইভাবে দেওয়া হয়। দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে নিয়মিত এই টিকা দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে সরকারের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এই টিকা দেন। সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য শহর এলাকায় এই টিকা দেন সিটি করপোরেশনের টিকা কর্মীরা (ভ্যাকসিনেটর) এবং এনজিও কর্মীরা।
৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়স বয়সী শিশুরা হাম রোগের টিকা পাবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম, রুবেলা, পোলিও, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ মারাত্মক রোগের টিকা বিনামূল্যে বা কমমূল্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গাবি থেকে ২১.৯ মিলিয়ন ডোজ টিকা ধার নিচ্ছে সরকার। পরে কিনে সেই ধার পরিশোধ করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে।
