রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঠেকানোর আহ্বান আসিফ মাহমুদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঠেকাতে এবং তাঁর অভিশংসনের দাবি তুলতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
গণভোট অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সময় সংসদে কারা উপস্থিত থাকবেন এবং সেই বক্তব্য শুনবেন সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, এর মাধ্যমেই বোঝা যাবে দেশে কারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে এবং কারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।
আরো পড়ুন: বিরোধীদলীয় উপনেতা তাহেরের বক্তব্যে সংসদে হাস্যরস
তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান করেন, তাদের উচিত রাষ্ট্রপতিকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং তাঁর অভিশংসনের দাবি তোলা।
এ সময় তিনি আরো বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে এবং জুলাই সনদের আলোকে দ্রুত রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তাদের এক দফা আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার পতন ঘটলেও সেই ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলোপ এখনো সম্ভব হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম থেকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও সংবিধানের অজুহাত এবং সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতার কথা বলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন নিয়ে এখন আর কোনো সাংবিধানিক জটিলতা নেই। তাঁর মতে, বর্তমান সংসদের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করার।
আরো পড়ুন: সংসদে মাইক বিভ্রাট, ২০ মিনিট পর আবার অধিবেশন শুরু
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শেষ প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা প্রয়োজন। এ সময় সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিলো রাষ্ট্রপতির অভিশংসন করতে হবে, জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
