×

খাবার

পেট ভরে খাওয়ার পরও কেন ক্ষুধা লাগে?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

পেট ভরে খাওয়ার পরও কেন ক্ষুধা লাগে?

ছবি : সংগৃহীত

ক্ষুধা লাগা বেশ স্বাভাবিক বিষয়। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত যা মনে করিয়ে দেয় শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলতে প্রয়োজনীয় এনার্জি বা শক্তির ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু যখন খাওয়ার ঠিক পরেই আবার খাবারের উপযোগিতা অনুভূত হয়, তখন বুঝতে হবে এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। তবে ওজন কমাতে ও সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণও জরুরি। তাই কী করলে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে না, সেটি জানতে হবে। এ জন্য আগে আপনাকে এর পেছনের কারণগুলো অবশ্যই জানতে হবে।

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, খাবারের উপাদান থেকে শুরু করে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা—সবই এর জন্য দায়ী হতে পারে।

খাবারের সঠিক উপাদানের অভাব 

আমরা যা খাচ্ছি তার গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে কতক্ষণ পেট ভরা থাকবে।

প্রোটিনের গুরুত্ব: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: মুরগির মাংস, চর্বিহীন গরুর মাংস, চিংড়ি) কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাটের তুলনায় বেশি সময় পেট ভরা রাখে। এটি শরীরে জিএলপি-১ এবং পিওয়াইওয়াই-এর মতো হরমোন নিঃসরণ করে যা মস্তিষ্কে পূর্ণতার সংকেত পাঠায়।

ফাইবারের ভূমিকা: ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার হজম হতে সময় নেয় এবং পাকস্থলী খালি হওয়ার গতি ধীর করে দেয়। ফলমূল, সবজি, ডাল ও দানা শস্য খাবারে ফাইবারের জোগান দেয়, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

পর্যাপ্ত আমিষ না খাওয়া

খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের অর্থ এই নয় যে একেবারে সব ধরনের খাবারের পরিমাণই কমিয়ে দিতে হবে। আমিষজাতীয় খাবার কম খেলে অন্যান্য খাবার খেয়েও আপনি পুরোপুরি তৃপ্তি পাবেন না। খাওয়ার খানিক পরই ক্ষুধা পেয়ে যাবে। তাই ভাত, রুটি, আলু, বিস্কুট, নুডলস, পাস্তার মতো শর্করাজাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন। কমিয়ে ফেলুন খাবারের তেল-চর্বির পরিমাণ। কিন্তু আমিষ গ্রহণ করুন পর্যাপ্ত। সকালের নাশতায়ও রাখুন আমিষজাতীয় খাবার। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ছাড়াও উদ্ভিজ্জ আমিষ গ্রহণ করতে পারেন। রোজকার খাদ্যতালিকায় নানা রকম ডাল ও বীজ রাখতে পারেন।

পর্যাপ্ত আঁশসমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া

আঁশসমৃদ্ধ খাবার পরিপাক হয় ধীরে ধীরে। এ ধরনের খাবার খেলে পেট ভরা থাকে লম্বা সময় পর্যন্ত। এগুলো কম পরিমাণে খেলেও আপনার চট করে ক্ষুধা পেয়ে যাবে। তাই বেশি পরিমাণে শাক গ্রহণ করুন। রাতে শাক খেলেও কিন্তু ক্ষতি নেই। পর্যাপ্ত আঁশ পাওয়ার জন্য কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম, চিয়া বীজ এবং আঁশসমৃদ্ধ সবজি, যেমন ফুলকপি, গাজর, ব্রকলিও খাবেন। খেতে পারেন গোটা শস্যের তৈরি খাবারও, যেমন লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটি। ওটমিলও খেতে পারেন।

স্ট্রেচ রিসেপ্টর এর প্রভাব 

পাকস্থলীতে এক ধরনের রিসেপ্টর থাকে যা খাবার খাওয়ার সময় পাকস্থলী কতটুকু প্রসারিত হচ্ছে তা শনাক্ত করে মস্তিষ্ককে তৃপ্তির সংকেত দেয়।

খাবারের পরিমাণ বনাম ক্যালরি: যদি খাবারের পরিমাণ কম হয়, তবে পাকস্থলী প্রসারিত হয় না এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগে। এই সমস্যা এড়াতে কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু বেশি আয়তনের খাবার যেমন—তাজা সবজি, ফল, এবং প্রচুর পানি পান করা উচিত। এটি তাৎক্ষণিক পূর্ণতা দিলেও দীর্ঘমেয়াদী তৃপ্তির জন্য প্রোটিন ও ফাইবার থাকা আবশ্যক।

লেপটিন রেজিস্ট্যান্স 

লেপটিন হলো এমন একটি হরমোন যা চর্বি কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীর পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে।

ওজন বেশি বা স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এই হরমোন ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে রক্তে পর্যাপ্ত লেপটিন থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক তা বুঝতে পারে না এবং ক্ষুধা অনুভব করতে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম, চিনি কম খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

যথাসময়ে পানি না খাওয়া

খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলে আপনার পেট ভরা ভরা অনুভব করবেন। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে তাই এ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। একটু ক্ষুধার্ত অনুভব করলেও খানিকটা পানি খেয়ে নিতে পারেন। ক্ষুধা জোরালো হওয়ার সুযোগ পাবে না।

জীবনযাত্রা ও আচরণগত কারণ 

খাওয়ার ধরন এবং আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও ক্ষুধার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। 

অন্যমনস্ক হয়ে খাওয়া: টিভি দেখে বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে খেলে শরীর পূর্ণতার সংকেত ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারে না।

দ্রুত খাওয়া: যারা খুব দ্রুত খাবার শেষ করেন, তাদের মস্তিষ্ক পেট ভরার সংকেত পাওয়ার আগেই খাবার শেষ হয়ে যায়। ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খেলে পেট ভরা অনুভূত হয়।

মানসিক চাপ: অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা খাবারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। 

ঘুমের অভাব: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ক্ষুধার হরমোন ‘ঘেরলিন’ বেড়ে যায়।

শারীরিক পরিশ্রম: অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে বিপাক হার বেড়ে যায়, ফলে শরীরের বেশি জ্বালানি বা খাবারের প্রয়োজন হয়।

রক্তে শর্করার মাত্রা: ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা রক্তে শর্করার উচ্চমাত্রা ক্ষুধার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। 

প্রতিকারের উপায়:

১. প্রতিবেলার খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।

২. খাওয়ার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিন এবং ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান।

৩. খাবারের আগে বা খাবারের সঙ্গে পানি পান করুন।

৪. মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যান করতে পারেন।

৫. রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।

খাওয়ার পর ক্ষুধা লাগা কোনো অস্বাভাবিক রোগ নয়, বরং এটি আপনার খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার কোনো ত্রুটির ইঙ্গিত। সঠিক পুষ্টির সমন্বয় এবং সচেতন অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এই সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। 

সূত্র: হেলথলাইন 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ডিসি সম্মেলনের আলোচনায় ৪৯৮ প্রস্তাব

ডিসি সম্মেলনের আলোচনায় ৪৯৮ প্রস্তাব

বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করছে ভারত

বাংলাদেশিদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করছে ভারত

বার্সায় হ্যান্সি ফ্লিকের নতুন চুক্তি

বার্সায় হ্যান্সি ফ্লিকের নতুন চুক্তি

মালিকপক্ষও গণমাধ্যমের কার্যকারিতা বিনষ্ট করছে

তথ্যমন্ত্রী মালিকপক্ষও গণমাধ্যমের কার্যকারিতা বিনষ্ট করছে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App