×

ইউরোপ

দেড়শ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজর কেন?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

দেড়শ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজর কেন?

গ্রিনল্যান্ড। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়াল্ড ইকোনোমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন। কখনও দ্বীপটি কেনার কথা, আবার কখনও প্রয়োজনে অন্য উপায়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। এমনকি এক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।

তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। ১৮৬৭ সাল থেকেই ওয়াশিংটন এ দ্বীপটির প্রতি কৌশলগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। প্রায় ৮ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ, যা আয়তনে টেক্সাসের তিন গুণেরও বেশি। কিন্তু জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০। ১৭২১ সাল থেকে এটি ডেনমার্কের অংশ এবং বর্তমানে স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে নিজস্ব পার্লামেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১০ম শতাব্দীর শেষ দিকে ভাইকিংরা প্রথম গ্রিনল্যান্ডে বসতি স্থাপন করে। পরে ১৭২১ সালে এক নরওয়েজীয় ধর্মযাজক দ্বীপটিকে ডেনমার্ক-নরওয়ের অধীনে দাবি করেন। ১৮১৪ সালে নরওয়ে আলাদা হলেও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড ধরে রাখে। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ‘হোম রুল’ লাভ করে এবং ২০০৯ সালে আরো বেশি স্বায়ত্তশাসন পায়।

১৮৬৭ থেকে মার্কিন আগ্রহ

১৮৬৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে এটি অধিগ্রহণের পক্ষে মত দেন। তবে তখনই আলাস্কা কেনায় কংগ্রেস নতুন করে বড় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়নি। ১৯১৭ সালে ডেনমার্কের সঙ্গে এক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করে। বিনিময়ে ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (বর্তমান ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস) কিনে নেয়। ঐতিহাসিক এই চুক্তিটি এখনও বৈধ বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

আরো পড়ুন : ক্ষমতার চূড়ায় থেকেও যেসব কাজ করতে পারেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট

সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত গুরুত্ব

১৯৫১ সালের এক চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অধিকার পায়। বর্তমানে সেখানে একটি দূরবর্তী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। প্রয়োজনে আরো ঘাঁটি নির্মাণ ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্লেষকদের মতে, এ অধিকার ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে, সরাসরি দ্বীপ কেনার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও রাশিয়ার মাঝামাঝি হওয়ায় এটি ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজ সম্পদও দ্বীপটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, খনিজ নয়, জাতীয় নিরাপত্তাই তাঁর প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

ন্যাটো ও বৈশ্বিক প্রভাব

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হওয়ায় এটি ন্যাটো জোটের আওতায় পড়ে। ১৯৪৯ সালে গঠিত এই জোটে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই সদস্য। এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করত, তবে তা জোটের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারত বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।” ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান রাসমুস ইয়ারলভও বলেন, দ্বীপটি বিক্রি করার প্রশ্নই ওঠে না।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রেও সমর্থন কম, মাত্র ১৭ শতাংশ নাগরিক গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন, আর সামরিক দখলের পক্ষে সমর্থন মাত্র ৪ শতাংশ।

ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তন

দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে তাৎক্ষণিক আলোচনার আহ্বান জানালেও পরে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি শক্তি প্রয়োগ করতে চাই না। পরে তিনি দাবি করেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ দেড় শতাব্দীর পুরোনো হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। কৌশলগত অবস্থান, নিরাপত্তা ও জোট রাজনীতির জটিল সমীকরণে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু আগামী দিনেও বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমানের রানআউট বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো এমসিসি

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

ইরান ইস্যুতে মতবিরোধ মার্কিন সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সংস্থা প্রধানের পদত্যাগ

হরমুজ প্রণালিতে কোনো অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে কোনো অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App