বিজয়কে হিংসা করেন?’ প্রশ্নে যা বললেন রজনীকান্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। তার এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সাফল্যে তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। কমল হাসান, রামচরণ, বিজয় দেবেরাকোন্দ্রা ও আল্লু অর্জুনসহ দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তারকা নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রবীণ অভিনেতা রজনীকান্ত। সম্প্রতি সাংবাদিকরা ‘মুখ্যমন্ত্রী বিজয়’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে নীরবে সরে যান। এরপরই সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়—নিজে রাজনীতিতে সফল হতে না পারার কারণেই কি বিজয়কে এড়িয়ে যাচ্ছেন ‘থালাইভা’?
এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের বিপুল জয়ের পর বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন রজনীকান্ত। সেই সময় তিনি সামাজিকমাধ্যমে বিজয়ের একটি জনপ্রিয় সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সময় কথা বলে না, তবে অপেক্ষা করে এবং সঠিক সময়ে উত্তর দেয়।”
রজনীকান্তের এই মন্তব্যকে অনেকেই তির্যক হিসেবে দেখেন। এতে বিজয়ের অনুরাগীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পরে রজনীকান্তের শুভেচ্ছাবার্তাকেও ট্রোল করা শুরু হয়।
১২ মে চেন্নাই বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা যখন তাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী বিজয়’ সম্পর্কে কিছু বলতে অনুরোধ করেন, তখন তিনি করজোড়ে কোনো মন্তব্য না করেই চলে যান। সেই ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
আরো পড়ুন : খাবারের জন্যও লড়াই করতে হয়েছে: বিজয়ের বাবা
অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন রজনীকান্ত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি বিজয়কে হিংসা করতে যাব কেন? কমল হাসান যদি মুখ্যমন্ত্রী হতেন, তাহলে হয়তো কিছুটা ঈর্ষান্বিত হতাম। তবে আমি এতটা নিচু মানসিকতার নই যে অকারণে কাউকে নিয়ে মন্তব্য করব।”
রাজনীতিতে বিজয়ের সাফল্যের প্রশংসাও করেন তিনি। রজনীকান্ত বলেন, “মাত্র ৫১ বছর বয়সে বিজয় এমজিআর এবং এনটিআরের চেয়েও বড় সাফল্য অর্জন করেছে। বিজেপি এবং তামিলনাড়ুর দুই শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে সে জয় পেয়েছে। এটা আমার জন্য বিস্ময়কর ও আনন্দের অভিজ্ঞতা।”
তিনি আরো বলেন, “এতে হিংসার কিছু নেই। আমি বিজয়ের চেয়ে ২৮ বছরের বড়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমি অংশ নিলে আমিও জিততাম।”
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বহু অভিনেতা অতীতে প্রবেশ করলেও শুরুতেই বড় সাফল্য খুব কম মানুষই পেয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কেবল জয়ললিতাই দীর্ঘমেয়াদে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।
