আইএমএফ
মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। খবর বিবিসি বাংলার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছরের শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২,৯১১ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের হতে পারে ২,৮১২ ডলার। ধারাবাহিক রপ্তানি আয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তুলনামূলক ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে এই সম্ভাবনার পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই অগ্রগতি স্থায়ী নাও হতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালে আবার মাথাপিছু জিডিপির হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও তাদের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের পূর্বাভাস দেখে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ মাথাপিছু জিডিপি বাড়লেই সাধারণ মানুষের জীবনমানে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসে না। অনেক ক্ষেত্রে বিনিময় হারসহ বিভিন্ন কারিগরি কারণে এই সূচক বাড়তে বা কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট বছরে মাথাপিছু জিডিপির তুলনা দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থান বিচার করা ঠিক নয়। কারণ দুই দেশের অর্থনীতির আকার, কাঠামো ও জনসংখ্যায় বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, জিডিপি হিসাব করা হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের মোট উৎপাদিত পণ্য ও সেবার বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর মাথাপিছু জিডিপি নির্ধারণ করা হয় মোট জিডিপিকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। ফলে মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে ডলারে প্রকাশিত জিডিপির মানেও পরিবর্তন দেখা যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়। কারণ এতে শুধুমাত্র বাজারে লেনদেনযোগ্য পণ্য ও সেবা অন্তর্ভুক্ত হয়, কিন্তু অনানুষ্ঠানিক বা অদৃশ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেক সময় হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
এছাড়া, এই ধরনের পূর্বাভাস অনুমাননির্ভর হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সবসময় মিল নাও থাকতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট কিংবা আন্তর্জাতিক সংঘাত -এসব কারণে ভবিষ্যৎ চিত্র বদলে যেতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশ এখনও বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে -যেমন বিনিয়োগে স্থবিরতা, প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ। তাই সাময়িক কোনো সূচকে এগিয়ে যাওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৬২৫ মার্কিন ডলার। তুলনামূলকভাবে বিশ্বে গড় মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ১৫,৬০০ ডলার, আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রায় ৭,৫০০ ডলার।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মাথাপিছু জিডিপিতে সম্ভাব্য অগ্রগতি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা মানুষের জীবনমানের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।
