বিজিএমইএ
গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আরও অনেক কারখানা আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ প্রেক্ষাপটে আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে বিভিন্ন নীতি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব তথ্য ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ ও বিজিবিএ’র শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রপ্তানি কমছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ফলে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। এতে স্থায়ী ব্যয় (ফিক্সড কস্ট) বেড়ে যাচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজেট প্রস্তাবনায় বিজিএমইএ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে- নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন থেকে অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী করা, সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা প্রদান এবং ইটিপিসহ বিভিন্ন কাঁচামালে শুল্ক ছাড়।
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৮৬ শতাংশ এবং গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।
এছাড়া ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
