রাজধানীতে সয়াবিন তেলের সংকট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দাম বাড়ার আশঙ্কায় ভোক্তারা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সয়াবিন তেল কিনতে শুরু করেছেন। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
যদিও খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন, যা বাজারে চাপ আরো বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।
ঢাকার শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ দোকানে পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও এক বা দুই লিটারের বোতল সীমিত পরিমাণে মিললেও অনেক দোকানে সেটিও নেই। শেওড়াপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, তার প্রয়োজন ছিল দুই লিটারের বোতল, কিন্তু আশপাশের দোকান ঘুরেও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হয়েছে।
আরো পড়ুন : জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ এসে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে তিনি ডিলারের কাছ থেকে দিনে ৮–১০ কার্টন তেল আনতেন। তবে গত কয়েক দিনে তা কমে দুই–তিন কার্টনে নেমে এসেছে। এ কারণেই বাজারে বোতলজাত তেলের সংকট তৈরি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারে কিছু ডিলারের দোকানে বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা তেলের জন্য ভিড় করছেন। তবে অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। মগবাজার এলাকার বিক্রেতা মো. পলাশ বলেন, আগে যেখানে চার কার্টন তেল নিতেন, এখন ডিলার সর্বাধিক এক কার্টনই দিচ্ছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডিলার পর্যায়েও দাম বেড়েছে। পাঁচ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা, যা আগে ডিলারের কাছ থেকে প্রায় ৯৩০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন অনেক দোকানদারকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে, ফলে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমে গেছে।
তেলের সংকটের মধ্যেই খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে গত চার দিনে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ১৯৮–২০০ টাকা হয়ে গেছে। খোলা পাম তেলের দামও কেজিতে প্রায় ১৭০ টাকায় পৌঁছেছে।
যদিও তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত তেল সরবরাহ করছেন এবং উৎপাদনেও কোনো ঘাটতি নেই। রমজানকে সামনে রেখে অতিরিক্ত তেল আমদানিও করা হয়েছে।
সিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান সরবরাহ কমায়নি। তবে এলসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। পাশাপাশি রমজানে চাহিদা বৃদ্ধি এবং কিছু মানুষের মজুদের কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজারে সরবরাহ–সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ।
