×

অর্থনীতি

আন্দোলন-কারফিউয়ের প্রভাবে হাওরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ধানের বাজারেও মন্দাভাব

Icon

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৪, ০২:২৯ পিএম

আন্দোলন-কারফিউয়ের প্রভাবে হাওরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ধানের বাজারেও মন্দাভাব

ছবি: সংগৃহীত

হাওরাঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল ধানের বেচাকেনার বৃহত্তম আড়ৎ সুনামগঞ্জের মধ্যনগরেও আন্দোলন ও কারফিউয়ের প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে এখানে বিভিন্ন মোকামের ক্রেতা কমে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাতাল মালিকদের কাছ থেকে গেল দশদিন ধরে টাকাও কম আসছে। অন্যান্য ব্যবসায়ও মন্দাভাব। ব্যাংকেও টাকা পেতে সমস্যা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।

মধ্যনগরের আড়তে ধান সরবরাহকারী ফড়িয়া কলমাকান্দার শাহিন মিয়া বললেন, কৃষকরা ছেলে-মেয়ের বিয়ে সাদী, গরু কেনাসহ জরুরি প্রয়োজনে ধান বিক্রয় করে। আমরা অর্ধেক টাকা দিয়ে- অর্ধেক না দিয়ে তাদের ধান বাকীতে কিনে আনি। আড়ৎদাররা টাকা দিলে তাদেরকে টাকা দেই। গেল ১০ দিন হয় কৃষকদের টাকা দেই দিচ্ছি বলে সময় নিচ্ছি। টাকা-পয়সা সময়মত না দিতে পারলে,‘বাটপার’ গালি দেয় তারা। এখন সেটাই হয়েছে। অন্য কৃষকদের কাছেও সেটি প্রচার হচ্ছে। এমন প্রচার হলে অন্যরাও বাকীতে বিক্রয় করে না। আমরাও ধান কিনতে পারি না। আড়ৎদারের কাছে আমার ১০-১১ লাখ টাকা পাওনা পড়ে আছে। তারা টাকা না দিলে আমি কৃষকদের দেই কীভাবে?

মধ্যনগর ধান আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি গোপেশ সরকার বললেন, ‘মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, মদনগঞ্জ ও আশুগঞ্জের চাতাল মালিকসহ ধানের আড়তদারদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা। গেল দশদিন হয় টাকা আসে নি বললেই চলে। কিছু টাকা কোনো কোনো ব্যবসায়ী পাঠালেও কলমাকান্দা নেত্রকোণায় গিয়ে ব্যাংকে টাকা পাওয়া যায় নি। ময়মনসিংহে গিয়ে টাকা এনেছেন ব্যবসায়ীরা। এভাবে ঝুঁকি নেন নি অনেকেই। বৃহস্পতি ও রবিবারে ৮-১০ কোটি টাকা বিভিন্ন মোকাম থেকে এখানে আসে। এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় নি। রবিবারও টাকা কম এসেছে। সব মিলিয়ে চার-পাঁচ কোটির বেশি হবে না। টাকা কম আসায় আড়তে স্থবিরতা আছে। ক্রেতার লোকজনও কম। বিক্রেতাও কম।

আরো পড়ুন: ছয় প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

মধ্যনগর ধানের আড়তের সভাপতি জহিরুল হক বলেন, ধানের আমদানীও কয়েকদিন হয় কম। আমরা যাদের কাছে বিক্রয় করি, তারাও আসছে না। আশুগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ছাড়া অন্যরা আসছে না। এ কারণে আশুগঞ্জের ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে ইচ্ছেমত টাকা দিচ্ছে। অন্যান্য ব্যবসায়ও গেল কয়েকদিন হয় মন্দাভাব বিরাজ করছে।

মধ্যনগর বাজারের বড় মুদী ব্যবসায়ী আশীষ কুমার তালুকদার বলেন, কারফিউয়ে কিংবা ছাত্র আন্দোলনে আমাদের কোনো সমস্যা হয় নি। দোকানপাঠ খোলা ছিল আমাদের। তবে গেল কয়েকদিন হয় বেচা-কেনা কমে গেছে।

উপজেলার বংশীকুন্ডা বাজারের বড় ব্যবসায়ী রিপন কুমার সরকার বললেন, বংশীকুন্ডা বাজারে কারফিউ বা আন্দোলনের কারণে দোকানপাঠ একদিনের জন্যও বন্ধ হয় নি। তবে বিভিন্ন মোকাম থেকে চাহিদা মত মালামাল আসছে না। অবশ্য দিনে দিনে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।

মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন তালুকদার বললেন, বন্যায় বেশ কয়েকদিন অনেকে দোকানপাঠ খুলতে পারে নি। এরপর কারফিউ। এখন ব্যবসা গরম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এই অবস্থায় চরম মন্দাভাব বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের মধ্যনগর শাখার ব্যবস্থাপক দীপঙ্কর সরকার বলেন, তিনদিন ব্যাংক বন্ধ ছিল। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ডিজিটাল লেনদেনও বেশ কয়েক দিন বন্ধ ছিল। এ কারণে নগদায়নে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App