বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি: আক্রান্ত ২৯০০, নিহত ৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঢাকা বিভাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু যেন হামের মতো ভয়াবহ রূপ না নেয়, সে জন্য সরকার ও সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যখাতে ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বরাদ্দ দিয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। দক্ষিণ সিটির প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, লার্ভা শনাক্তে ৭৫টি ওয়ার্ডে জরিপ টিম গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর সিটিতে ঈদের পর সপ্তাহে তিন দিন ফগিং কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্ষা পুরোপুরি শুরু না হলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে, ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তদের প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী। গত কয়েক বছরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ২০২৩ সালে রেকর্ড তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যান।
আক্রান্তদের মতে, সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শুরুতে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরবর্তীতে পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তাই বাসা-বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
এ অবস্থায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৭৫টি ওয়ার্ডে জরিপ টিম গঠন করে লার্ভা শনাক্তের কাজ করছে এবং নতুন ফগিং মেশিন সংগ্রহ করছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, কোথায় লার্ভা বেশি জন্মাচ্ছে তা শনাক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ ভবন ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন : হটস্পট ৩০ উপজেলায় কমেছে হাম সংক্রমণ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ঈদের পর থেকে সপ্তাহে দুই দিনের পরিবর্তে তিন দিন ফগিং কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুধু ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়, ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ বছর হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। তাই মৌসুমি নয়, সারাবছর ধরে সমন্বিত কর্মসূচি চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে দেশব্যাপী একযোগে কার্যক্রম প্রয়োজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ডেঙ্গু টিকা কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
