দেশে হাম নিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
হামের কারণে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারি বলা যাবে না। প্রথম শিশু মৃত্যুর পরপরই সরকার আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে অবস্থিত লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
গত প্রায় দুই মাসে হাম ও এর উপসর্গে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই। প্রথম শিশু মৃত্যুর পরই আমরা আইসিইউর ব্যবস্থা করেছি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেন্টিলেটর সরবরাহ করেছি। আগের সরকার আমাদের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রেখে যায়নি। আমরা দ্রুত গ্যাভি ও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করেছি।
আরো পড়ুন : দেশজুড়ে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে তা দেশব্যাপী চালু হয়েছে। তার আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দুর্যোগ থেকে উত্তরণে কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে রোগীর সংখ্যা কমছে। যারা জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা বলছেন, তারা বিষয়টি কতটা বুঝে বলছেন তা স্পষ্ট নয়। বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারি বলা যাবে না।
তিনি বলেন, ঢাকায় হামের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম। রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ রোগী অন্য জেলা থেকে আসছেন। ঢাকায় টিকাদানের পরিমাণ বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং জেলা সিভিল সার্জন এএফএম মুশিউর রহমানসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত চলবে।
