কুটির শিল্পের নামে বাণিজ্যিক মেলা
৩০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে কোটি টাকা বাণিজ্য
সাইফুর রহমান ফারুক, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা’র নামে মাসব্যাপী একটি মেলায় মাত্র ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব দিয়ে কোটি টাকার বেশি আয়ের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রামীণ কুটির শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হলেও মেলায় কুটির শিল্পের উল্লেখযোগ্য কোনো পণ্য দেখা যাচ্ছে না।
গত রোববার সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন ধরনের ৮৭টি স্টল, ১১টি বিনোদন রাইড এবং চারটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। গত ১৬ মে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদসংলগ্ন কালেক্টরেট মাঠে মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হয়।
জানা গেছে, মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আজাদ হোসেন রানা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক মাসের অনুমতি নিয়েছেন। অনুমতি অনুযায়ী প্রতিদিন সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে এক হাজার টাকা করে জমা দিতে হচ্ছে। সে হিসাবে এক মাসে মোট ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলার ১১টি রাইড থেকে দৈনিক নির্দিষ্ট হারে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। স্টলগুলোর আকারভেদে ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মাসিক চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলার বাইরের তিনটি স্টল স্থাপনের জন্যও প্রতিটি থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেল পার্কিং বাবদও ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্টল মালিক মো. জমিস উদ্দিন বলেন, “দেড় লাখ টাকায় স্টল নিয়েছি। প্রতিদিন বিক্রির ওপর ভিত্তি করে তিন থেকে চার হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। কোনো দিন বিক্রি কম হলে টাকা দিতে না পারলে স্টল পরিচালনায় বাধা দেওয়া হয়।”
কুমিল্লার মারিয়া কুকারিজের মালিক আক্তার হোসেন বলেন, “প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়। বিক্রি না হলেও রাতের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে হয়।” লাইভ মিক্স ফ্রুট রোলিং আইসক্রিম স্টলের আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি ৮০ হাজার টাকায় স্টল নিয়েছেন এবং প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আচার ব্যবসায়ী বলেন, দুই লাখ টাকায় দুটি স্টল নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন, বাকিটা কিস্তিতে পরিশোধ করছেন। আকাশ ভাইয়ের নাটোরের বিখ্যাত জিলাপি ঘরের আব্দুল আজিজ জানান, তিনি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মেলার বাইরে স্টল বসানোর অনুমতি পেয়েছেন।
দর্শনার্থী মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “মেলার নামের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। পুরো মেলা ঘুরেও গ্রামীণ কুটির শিল্পের কোনো পণ্য চোখে পড়েনি।” আরেক দর্শনার্থী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কুটির শিল্পের পণ্য কেনার উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে সে ধরনের কোনো পণ্য পাইনি।”
অভিযোগের বিষয়ে আয়োজক কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন রানা বলেন, “মাসব্যাপী এ মেলার জন্য প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে এক হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে। মেলায় ৬৫ থেকে ৭০টি স্টল রয়েছে।”
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, “বিনোদনের জন্য মেলাটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে স্টল থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
