×

ঢাকা

‘মৃতদের’ নামে খাদ্যবান্ধব চাল উত্তোলন, এলাকায় ক্ষোভ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

‘মৃতদের’ নামে খাদ্যবান্ধব চাল উত্তোলন, এলাকায় ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল মৃত ব্যক্তি ও এলাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের নামে উত্তোলন করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপকারভোগীদের তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও বহু আগে এলাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের নাম বহাল রেখে নিয়মিত চাল উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে সেই চাল বেশি দামে বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি মাসে অন্তত ৭০ বস্তা চাল এভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে সরকারি মনোগ্রামযুক্ত চালের বস্তা একটি মাদ্রাসায় মজুত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৬ এপ্রিল তুমুলিয়া ইউনিয়নের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ৪০টির বেশি সরকারি চালের বস্তা দেখতে পান তাঁরা। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে মাদ্রাসার সুপার আরিফ উল্লাহ জানান, ডিলারের প্রতিনিধি পরিচয়ে আসা রুবেল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ৪২ বস্তা চাল কিনেছেন। প্রতি বস্তার দাম ছিল ১ হাজার ৫০ টাকা। তিনি আরও জানান, এর আগেও একইভাবে কয়েকবার চাল কেনা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাগরী ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিবন্ধিত ডিলার সেফালী বেগম। তবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাঁর জামাতা এস এম রুবেল হাসান। প্রতি মাসে তাঁরা ৫৬৫ বস্তা চাল বিতরণের বরাদ্দ পান বলে জানা গেছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, হতদরিদ্র পরিবারগুলো বছরে ছয় মাস ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজির একটি চালের বস্তা পাওয়ার কথা। সে হিসাবে প্রতিটি বস্তার সরকারি মূল্য ৪৫০ টাকা। অথচ একই বস্তা বাজারে ১ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ টাকা লাভ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু মৃত বা এলাকা ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করেই নয়, অনেক সক্রিয় উপকারভোগীকেও চাল না দিয়ে তাঁদের বরাদ্দ বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম রুবেল হাসান। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ অংশীদার হয়ে কাজ করতে চেয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এখন মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাকিলা শারমিন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ডিলারশিপ বাতিলের বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ঈদুল আজহা সামনে রেখে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু

ঈদুল আজহা সামনে রেখে টিসিবির ট্রাকসেল শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নকারীদের প্রতি কঠোর হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নকারীদের প্রতি কঠোর হুমকি ইরানের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির ১০০ প্রার্থী ঘোষণা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির ১০০ প্রার্থী ঘোষণা

৩৮৬ রানে অলআউট পাকিস্তান

৩৮৬ রানে অলআউট পাকিস্তান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App