হাঁটু কাদায় চরম ভোগান্তি
নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় সড়ক নির্মাণ বন্ধ
হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চৌদ্দশত-পুলেরঘাট, জালুয়াপাড়া, নেহারদিয়া ও গোবিন্দপুরসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া-নেহারদিয়া ও গোবিন্দপুর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজের নামে এক্সাভেটর (ভেকু) দিয়ে রাস্তার মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, বৈশাখ মাসে ফসল ঘরে তোলার মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার ৭২০ মিটার সড়ক নির্মাণে ৩ কোটি ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৬ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি পায় এমএস মুশফিকুর রহমান কাঞ্চন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকল্পটির মেয়াদ গত মার্চেই শেষ হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে তা এমএস শামীম এন্টারপ্রাইজের কাছে দেন। পরে শামীম এন্টারপ্রাইজ কাজ শুরু করলেও শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার তাঁর নিজস্ব ইটভাটা থেকে নিম্নমানের তিন নম্বর রাবিশ ব্যবহার করে কাজ শুরু করেন, যা সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করে। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং সরঞ্জাম নিয়ে চলে যান।
জালুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হায়দার মিয়া বলেন, “মূল ঠিকাদার কাজ ছেড়ে দেওয়ার পর নতুন ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন। আমরা বাধা দিলে তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এভাবে কাজ পছন্দ না হলে তিনি কাজই করবেন না।”
হৃদয় মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঠিকাদার তাঁর ইটভাটা থেকে ভাঙা ইট এনে রাস্তার কাজ করছিলেন। আমরা ভালো কাজের কথা বলায় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, কেউ কিছু করতে পারবে না। এরপর কাজ বন্ধ করে মেশিন নিয়ে চলে যান।”
সড়কটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীদের কাদামাখা পথে চলাচল করতে হচ্ছে। রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ভ্যান বা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন সংকটে কৃষকেরা মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না।
চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী বলেন, “গ্রামবাসীর অভিযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়ম দেখতে পাই। ঠিকাদার নিজের ইটভাটা থেকে নিম্নমানের রাবিশ ফেলছিলেন। আমি ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহার করতে বললে তিনি তা মানেননি। পরে কাজ বন্ধ করে চলে যান। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি আরও জানান, একাধিকবার এলজিইডি অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমএস শামীম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামীম বলেন, “আমি কাজ করতে চেয়েছি। কিন্তু স্থানীয়রা রাস্তার পাশে মেশিন বসিয়ে ইট ভেঙে কাজ করতে বলেছে। আমার ইটভাটার রাবিশ পছন্দ হয়নি, তাই কাজ বন্ধ রেখেছি। এখন এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম ইকবাল মুন্ন বলেন, “কাজটি যিনি করছেন, তাঁর পরিবারে কেউ অসুস্থ থাকায় বিলম্ব হয়েছে। তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যে কাজ শুরু হবে।”
