দূষণের হুমকিতে ব্রহ্মপুত্র, নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদসভা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ রাজঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নদীটিকে দূষণমুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৩টায় লাঙ্গলবন্দ রাজঘাটে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি (ESADS) এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের মহাসচিব মীযানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিখন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, একটি নদী কেবল পানির প্রবাহ নয়, এটি একটি সভ্যতার প্রাণ। ব্রহ্মপুত্র নদ দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য ও দূষণের কারণে নদীটির স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি নদীটিকে দূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
আরো পড়ুন: ঈদে বছিলা ও শিমুলিয়া ঘাটে থাকবে বিশেষ লঞ্চ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিপন সরকার শিখন বলেন, লাঙ্গলবন্দ শুধু একটি নদীর ঘাট নয়; এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। প্রতি বছর চৈত্র মাসে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পূণ্যার্থী এখানে এসে ব্রহ্মপুত্র নদের পুণ্যস্নানে অংশ নেন। তবে শিল্পকারখানা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দূষণের কারণে এই পবিত্র নদী বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদকে দূষণমুক্ত রাখা শুধু পরিবেশগত নয়, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বও। এ বিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি তিলত্তমা দাস এবং রাজঘাট মন্দিরের পুরোহিত নিহারঞ্জন কর্তা গুরুদেব। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মী ইমরান, হামীম, আল-আমিনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে শপথ পাঠ করেন—‘সবাই মিলে গড়বো দেশ, দূষণমুক্ত বাংলাদেশ।’
