৬ বছর পর তামিম হত্যার আসামি গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হাতিরঝিল থানার বহুল আলোচিত তামিম হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো. রায়হান শুভ (২৩)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর পৌনে ২টার দিকে সিআইডি ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ও এলআইসি’র একটি যৌথ দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাবাগান থানাধীন সেন্ট্রাল রোডের ৮৬ নম্বর বাসা থেকে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রায়হান শুভ (২৩) বরিশাল জেলার বানারীপাড়া থানার দক্ষিণ নাজিরপুর গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম খোকন ও জেসমিন আক্তার দম্পতির ছেলে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মেইন রোডের ফুটপাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মো. তামিমের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় এজাহারনামীয় আসামি মো. সাব্বির ও মো. শাওনসহ অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে রায়হান শুভ উপস্থিত থেকে তামিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এক পর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায় তারা।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তামিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৭) দায়ের করেন।
তদন্ত চলাকালে পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রায়হান শুভর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করে, শুভ অপরাধস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে। ঘটনার পর থেকেই সে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল।
সিআইডি জানায়, ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ও এলআইসি’র একটি যৌথ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাবাগান থানাধীন সেন্ট্রাল রোডের একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত রায়হান শুভ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
সিআইডি আরো জানিয়েছে, মামলার রহস্য উদঘাটন, বাকি আসামিদের শনাক্ত ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
