তরুণীদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল, বেরিয়ে এলো আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় গত ৪ মার্চ এক তরুণী অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ এক সন্দেহভাজন প্রতারকের সন্ধান পায়। তদন্তে জানা যায়, গত দেড় মাসে একই কৌশলে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন ওই যুবক।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের ওই প্রতারককে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাব্বিকে আটক করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর একে একে আরো বহু তথ্য বেরিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে, আর অভিযুক্ত নিজেই ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।
আরো পড়ুন : বিদেশি অস্ত্রসহ একজন গ্রেপ্তার
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, প্রতারণার ধরন ছিল প্রায় একই। রাব্বি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলে পরে তাদের ব্ল্যাকমেল করতেন। কখনো ধর্ষণ, আবার কখনো ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। যেসব ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, তাদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাব্বি প্রথমে কোনো নারীকে লক্ষ্যবস্তু বানাতেন। পরিচয়ের পর সুযোগ বুঝে তার মুঠোফোন নিজের কাছে নিয়ে নিতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকার অন্যান্য তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতেন। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন অজুহাতে বাইরে দেখা করার জন্য ডাকতেন।
ভুক্তভোগীদের দনিয়া কলেজসংলগ্ন দুটি বাসায় নেওয়া হতো বলে জানান ডিসি। দিনের বেলায় একটি এবং রাতের বেলায় অন্য বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন, নগদ অর্থ এমনকি ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওয়াসী উদ্দিন বলেন, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক কারণে সরাসরি অভিযোগ না করে ‘মোবাইল হারিয়েছে’ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সেই জিডির সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এখন পর্যন্ত রাব্বির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে এবং আরো কয়েকটি জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। তার কাছ থেকে পাঁচটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ যেগুলোর প্রতিটিই ভুক্তভোগীদের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ আরো জানায়, রাব্বি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন এবং কোনো পেশায় যুক্ত ছিলেন না। অপরাধ করেই তিনি অর্থ উপার্জন করতেন। যাকে তিনি বিয়ে করেছেন তাকেও একই কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। এমনকি শ্বশুরবাড়িতেও একই ধরনের কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে একবার ধরা পড়েছিলেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
রাব্বিকে ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরো কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানিয়েছেন ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
